রাজিবপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপআসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই রাজিবপুর উপজেলার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের গ্রামে গ্রামে আনাঘোনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। দলীয় প্রতিক পাওয়ার জন্য গণ সংযোগের পাশাপাশি দৌড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতা-নেত্রীর পিছনে।

ঢাকা থেকে ফিরে এসেই স্থানীয় নেতা -কর্মীদের সাথে নিয়ে হাট-বাজারে ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দোয়া কামনা করছেন। নৌকা মার্কার ব্যানার,ফেস্টুন ও লিফলেট হাতে নিয়ে দলে দলে গণ সংযোগ করে চলছে। তবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টীর নেতা ছাড়া বিএনপি কিংবা জামাতের কোন প্রার্থীর কোন গণসংযোগ নেই।

এ পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৬ জন প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রায় ২০জন এবং হাফ ডজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের নাম শোনা যাচ্ছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে যাদের গণ সংযোগ ও পোষ্টার ব্যানারে নাম দেখা ও শোনা যাচ্ছে,তারা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল হাই সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জননেতা শফিউল আলম,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আকবর হোসেন হিরো, কোদালকাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ুন কবীর ছক্কু,উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও জেলা পরিষদ সদস্য রাজিয়া সুলতানা রেনু। জাতীয়পার্টি থেকে রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী রাজিবপুর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মাষ্টার আজিবর রহমান, কোদালকাটি ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা সোহেল হোসেন, মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক আজিজুল হক বিডিআর, আবদুল বাবী সরকার, বাচ্চু মিয়া, রাজিবপুর ১নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মিন্টু, ইউপি সদস্য খবীর উদ্দীন,ফরিদ উদ্দিন পাটোয়ারী, জাতীয়পার্টী নেতা বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম,হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রহমান (হবি মন্ডল), আবু তালেব,জাতীয় পার্র্টী জেপি আবদুর রশিদ সরদার, স্বতত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দীক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুৃল মালেক, রুহুল আমিন,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ নেত্রী বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ভুমিহীন নেত্রী হাফিজা বেগম, আওয়ামী লীগ সর্মথক আকলিমা খাতুন, আমিনা খাতুন,স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্বপ্না খাতুন এর নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল হাই সরকার জানান,আমি দীর্ঘ দিন থেকে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে যাচ্ছি,আমাকে দল থেকে নৌকা মার্কা দিলে আমি নির্বাচিত হতে পারব।

বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, আমি গত ৫ বছরে রাজিবপুর উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তা ছাড়া গত ১১তম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলের জন্য কাজ করতে বলেছেন। আমি এলাকার উন্নয়ন ও দলের জন্য কাজ করছি। আশারাখি দল আমাকে নৌকা মার্কা দিবে।

অপর দিকে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো জানান, দলের তৃণমুল নেতা ও ভোটাররা আমাকে চায়। জননেত্রী আমাকে দলের মনোনয়ন দেবে বলে আমার বিশ্বাস। রাজিয়া সুলতানা রেনু জানান,আমার বাবা প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি যোগ্য বাবার যোগ্য কন্যা। আমি বর্তমানে জেলা পরিষদ সদস্য। রাজিবপুরের নারী ভোটাররা আমাকে চায়।

আমি নির্বাচিত হতে পারলে রাজিবপুরের নারী আর অবলা ও অবহেলিত থাকবে না। সমাজের প্রতিটি কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অংশগ্রহণ করবে। উল্লেখ্য আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজিবপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে ২৬ হাজার ৫৩৫ জন পুরুষ এবং ২৭হাজার ৫৪৪ জন ভোটার ভোট প্রয়োগ করবেন। যাতে রয়েছে ২৭টি কেন্দ্র ও ১১৫টি বুথ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাই

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য