২০ বিলিয়ন ডলারের চীনা রেল প্রকল্প বাতিল করছে মালয়েশিয়া২০ বিলিয়ন ডলারের একটি চীনা রেল প্রকল্প বাতিল করতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। শনিবার মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আজমিন আলী এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, তার দেশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন্স কন্সট্রাকশন কোং লিমিটেড (সিসিসিসি)-এর সঙ্গে ২০ বিলিয়ন ডলারের ইস্ট কোস্ট রেল লিংক (ইসিআরএল) প্রকল্প বাতিল করবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানায় কুয়ালালামপুর। তবে এই প্রকল্পের ব্যয় বিশাল অংকের।

তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা এই প্রকল্প বাতিলের কারণ এটি ব্যয় অনেক বেশি। এই পরিমাণ আর্থিক সক্ষমতা আমাদের নেই।

প্রকল্প বাতিলের ফলে কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে সরকার তা বিবেচনা করে দেখছে।

অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আজমিন আলী বলেন, বছরে এই প্রকল্পে শুধু সুদই দিতে হবে ১২০ মিলিয়ন ডলার। আমরা এই ব্যয় বহনে সক্ষম নই। ফলে চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করেই আমাদের এই প্রকল্প থেকে সরে আসা প্রয়োজন।

এর আগে গত আগস্টে চীনা অর্থায়নে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের একাধিক প্রকল্প বাতিল করে দেয় মালয়েশিয়া। এসব প্রকল্প এখন অপ্রয়োজনীয় এবং এতে দেশটির পিঠে অসহনীয় ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হবে বলে মনে করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

গত আগস্টে বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিকিয়াং প্রকল্পগুলো বাতিলের কারণ বুঝতে পেরেছেন আর তা মেনেও নিয়েছেন। তবে এর আগে বিনিয়োগের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে চীন দাবি করেছিল, এতে উভয় পক্ষেরই বাস্তবিক লাভ হবে।

এর আগেই দুই হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় রেলপথ এবং ২৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে দুটি জ্বালানি পাইপলাইন নির্মাণের প্রকল্প নিয়ে পুনরায় আলোচনা স্থগিত করে মালয়েশিয়া।

মাহাথির বলেন, ‘এখানে অনেক বেশি অর্থ খরচ করা হবে যার সামর্থ্য আমাদের নেই। এছাড়া এই মুহূর্তে মালয়েশিয়ার জন্য এসব প্রকল্পের দরকারও নেই।’

মাহাথির বলেন, প্রয়োজন পড়লে আবারও এসব প্রকল্প চালু করা যেতে পারে। তবে এখন মালয়েশিয়ার প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয় ঋণ কমানো। তিনি বলেন, ‘আমাদের যত ঋণ আছে, সতর্ক না হলে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাবো।’ নিজের পূর্বসূরী নাজিব রাজাকের ‘বোকামি’কে দোষারোপ করেন মাহাথির। তিনি বলেন, নিজ থেকে এসব প্রকল্প থেকে বের হয়ে আসায় মালয়েশিয়াকে এখনও প্রকৃত জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া এসব প্রকল্পের জন্য দেওয়া অর্থ কোথায় গেছে তাও খুঁজে বের করা প্রয়োজন। বেইজিং সফর শুরুর আগেও মাহাথির বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার জন্য এসব প্রকল্প দরকার নেই।

চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনার আওতায় এশিয়াজুড়ে বন্দর, রেলপথ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। আর এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই করা হচ্ছে চীনের রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের দেওয়া ঋণের অর্থে ও চীনা কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে। থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশে অভিযোগ উঠেছে, এই পরিকল্পনার প্রকল্পগুলো অপ্রয়োজনীয় ও বেশি ব্যয়বহুল। স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে এসব প্রকল্পে কাজ করার তেমন কোনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি এতে দুর্নীতিসহ অর্থ আত্মসাতেরও অনেক সুযোগ রাখা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য