মিন্দানাওয়ে গণভোটে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায়ফিলিপিন্সের দক্ষিণের মুসলমান অধ্যুষিত মিন্দানাও অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে গণভোটে প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে মত দিয়েছেন।

গত সোমবারের গণভোটে ওই অঞ্চলের প্রায় ১৭ লাখ ভোটার ভোট দেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল ঘোষণা করে। ভোটারদের রায় স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে হওয়ায় আগামী তিন বছরের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। স্বায়ত্তশাসন চালু হলে ওই অঞ্চলটির নাম হবে ‘বাংসামোরো’।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০২২ সাল নাগাদ ‘বাংসামোরো’তে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। যার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের লোকজন নিজস্ব পার্লামেন্ট ও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করবে।

তখন কেন্দ্র সরকার থেকে বেশ কিছু ক্ষমতা স্থানীয় সরকারের কাছে যাবে। এছাড়া, ওই অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জন্য তহবিলের যোগান বড়াবে এবং সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদের উপর স্থানীয় সরকারের অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে।

এশিয়ার সবচেয়ে সংঘাতময় অঞ্চল মিন্দানাওয়ে শান্তি ফেরানোর আশায় এ গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। ফিলিপিন্সের বেশির ভাগ মানুষ ক্যাথলিক খ্রিস্টান হলেও মিন্দানাও মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল।

এক দশকের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইসলামপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও অন্যান্য বিদ্রোহীদের সংঘাতের কারণে মিন্দানাও ফিলিপিন্সের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সেখানে ২০১৭ সাল থেকে সামরিক শাসন জারি আছে।

মিন্দানাও অঞ্চলে স্বাধীনতার দাবিতে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ‘মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এমআইএলএফ) ফিলিপিন্সের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে।

ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ফিলিপিন্স সরকার সম্প্রতি এমআইএলএফ এর সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি সাক্ষর করেছে। এ চুক্তির আওতায় সোমবারের গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এমআইএলএফ বলেছে, সরকার ‘বাংসামোরো’ নামের নতুন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করলে তারা স্বাধীনতার দাবি প্রত্যাহার করে নেবে। মিন্দানাও অঞ্চলের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে নতুন এই অঞ্চলটি গঠিত হবে।

গণভোটের রায় স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে যাওয়ায় এমআইএলএফ এখন ওই অঞ্চলের বৈধ রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হবে এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দলটি সেখানকার অধিক চরমপন্থি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলগুলোকে নির্মূল করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে।

গত ২১ জানুয়ারির ভোট স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে যাওয়ায় এখন আশেপাশের বেশ কিছু এলাকায় আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় গণভোট হবে।

৬ ফেব্রুয়ারির গণভোটে আশেপাশের অঞ্চলের বাসিন্দাদের তারা ‘বাংসামোরো’ স্বায়ত্তশাসিত ‍অঞ্চলে সংযুক্ত হতে চায় কিনা তা জিজ্ঞাসা করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য