দিনাজপুরে মহাসড়কে কার্পেটিং কাজে মান্ধাতা পদ্ধতি, রাস্তার বেহাল দশাদিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে মহাসড়কের কার্পেটিংয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধের দাবী জানিয়েছেন মহাসড়কে চলাচল যানবাহন চালক ও স্থানীয়রা।

দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে দশমাইল পর্যন্ত এই কাজ চলছে। রাজশাহীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আলী ইন্টারপ্রাইজ এই কাজ করছে।

আজ বুধবার (২৩ জানুয়ারী) দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের কিছু কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে পুরাতন পদ্ধতিতে। নেই কোন ডিজিটাল মেশিন। শ্রমিকরা পিস দিয়ে মেশনো খোয়া রাস্তায় বিছিয়ে দিচ্ছেন আর ১টি রোলার মেশিন তা সমান করে দিচ্ছে। এতে করে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবাহন ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গোপালগঞ্জ বাজারের সবজি বিক্রেতা আলাউদ্দীন মিয়া জানান, এই মহাসড়কে এ ধরনের কার্পেটিংয়ের কাজ এই প্রথম দেখলাম। এধরনের কোন আমি কোন সময় দেখি নাই। ডিজিটাল যুগে নেই কোন ডিজিটাল মেশিন। চলছে শ্রমিকদের কার্পেটিংয়ের কাজ। এ ধরনের কাজ বন্ধ করার জন্য দাবী জানান।

মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকরা জাবেদ এন্টারপ্রাইজের চালক আল-আমিন জানান, এ ধরনের কাজ আমাদের গাড়ী চলাচলে অনেক ক্ষতি করে। কিছু কিছু জায়গায় কার্পেটিংয়ের ফলে গাড়ীর অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়। কার্পেটিংয়ের ফলে কিছু কিছু জায়গা উচু আর কিছু কিছু জায়গায় নিচু হয়ে গেছে। গাড়ী চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা রাজিউর রহমান জানান, যেভাবে কাজ হচ্ছে দেখে মনে হচ্ছে যে, ৮০ দশকের কাজ দেখছি। নেই কোন ডিজিটাল মেশিন। তাও আবার কিছু কিছু জায়গায় কার্পেটিং করা হচ্ছে আবার কিছু কিছু জায়গায় কাপের্টিং করা হচ্ছে না। এধরনের কাজ করা থেকে না করাই ভাল। তিনি এই কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ করার জন্য দাবী জানান।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত লেবার ঠিকাদার অংকুর আলী জানান, আমাদের উপর থেকে যেভাবে কাজের নির্দেশনা আসছে আমি সেই ভাবে কাজ করছি। এর বাইরে আমাদের করার কিছু নাই।

দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিতী চাকমা জানান, ১২ মিলি মিটারের কার্পেটিংয়ের কাজে ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার করা হয় না। ৪০ মিলিমিটারের কাজে ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার করা হয়। এতে কোন অনিয়মের অভিযোগ নেই বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, বরাদ্দ কম থাকায় কিছু কিছু জায়গায় কার্পেটিং করা হচ্ছে। বেশি বরাদ্দ পেলে আরও বেশি জায়গায় কার্পেটিং করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য