মৌ-চাষে স্বাবলম্বী বীরগঞ্জের আধুনিক মৌয়াল ইউসুফদিনাজপুর সংবাদাতাঃ যারা বনে বাদাড়ে মধু সংগ্রহ করে তাদেরকে বলে মৌয়াল। আমাদের আলোচিত ইউসুফও একজন মৌয়াল তবে আধুনিক,যিনি বাক্সে মৌমাছি পালন করে মধু সংগ্রহ করেন।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সম্ভুগাঁ গ্রামের বফির সরকারের পুত্র মোঃ ইউসুফ আলী আজ থেকে ৩ বছর আগে প্রায় এক লাখ টাকা বিনিয়োগে,বিসিকের প্রশিক্ষক চাচা মোর্শারফ হোসেনের তত্বাবধানে শুরু করেছিলেন মৌমাছি পালন।

প্রারম্ভে তার মৌমাছি পালন বাক্স ছিল ৩০ টি।এখন তার বাক্স হয়েছে ৯০ টি।এর প্রতিটি বাক্সে ১০টি করে ট্রে থাকে। আর ১টি বাক্সে ১টি রাণী মৌমাছিকে ঘিরে তৈরী হয় ১টি করে কৃত্রিম মৌচাক।এই কৃত্রিম মৌচাক থেকেই সংগ্রহ করা হয় মধু।

মধু সংগ্রহের জন্য এই বাক্সগুলিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ফুলের সন্নিকটে স্থানান্থরিত করা হয়।বর্তমানে এগুলিকে বীরগঞ্জের নখা পাড়ায় পাকা সড়কের পাশে সরিষা ক্ষেতের কাছাকাছি রাখা হয়েছে, যাতে মৌমছিরা সরিষা ফুল থেকে সহজেই মধু সংগ্রহ করতে পারে।

মোঃ ইউসুফ আলী জানান, গত সপ্তাহে এখানেই তিনি ১বার মধু সংগ্রহ করেছেন, যার পরিমান ছিল প্রয় ৭ মন,মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সরিষার মৌসুমেই তিনি ৪/৫ বার মধু সংগ্রহ করবেন।

এর পর লিচু বাগানে স্থানান্থরিত করা হবে বাক্সগুলিকে।লিচুতেও ৪ বার মধু সংগ্রহ করা হবে।এভাবে মূলা বীজ উৎপাদন ক্ষেত,কুমড়া ক্ষেত,ধনিয়া ক্ষেত ও কালোজিরা ক্ষেতে রাখ হয় কৃত্রিম মৌচাক এই বাক্সগুলিকে।অর্থাৎ যেখানে ফুল সেখানেই রাখার চেষ্টা করা হয় এই বাক্সগুলিকে।

এভাবে সারা বছর মধু সংগ্রহ করে বিক্রীর মাধ্যমে তার আয় হয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। যখন ফুল থাকে না,তখন মৌমাছিদেরকে চিনি খেতে দিতে হয়। আর গত বছর বন্যার সময় তার অনেক মৌমাছি মরে গিয়েছিল বলেও জানান ইউসুফ।

ইউসুফ আরও জানান, মৌচাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। কেউ মৌচাষে আগ্রহী হলে সর্বতোভাবে সাহায্য করবেন, আর সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে তিনি এই মৌচাষ আরও সম্প্রসারিত করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য