যৌতুক লোভী ও নির্যাতনকারী স্বামী‘কে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলনেসংবাদ সম্মেলনঃ স্বামী আব্দুল্লাহ‘র যৌতুকের দাবী মেটাতে না পারায় অবশেষে নিষ্ঠুর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ঘর ছাড়তে হলো স্ত্রী সাবিহা বেগম আনসারীকে। শাশুড়ী দেবর ননদের অকথ্য অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেই স্বামীর সংসার করতে চেয়েছিলো সাবিহা কিন্তু এখন বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করেছেন রংপুরের সেন্ট্রাল রোড নিবাসী মৃত ওয়াকিল আহমেদ আনসারীর কন্যা সাবিহা বেগম আনসারী।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন,দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার মেলাগাছি গোরস্থানপাড়ার মো: মকবুল হোসেনের পুত্র মো: আব্দুল্লাহর সাথে তার ২০১৬ সালের ৪ডিসেম্বর বিয়ে হয়। বিয়ের পর সাংসারিক জীবন সুখেই কাটছিলো কিন্তু একমাস পর স্বামী আব্দুল্লাহ দুবাই চলে যায়। এরই মধ্যে সাবিহার প্রথম বিয়ের ঘটনা শশুড় বাড়ির লোকজন জানতে পেরে শুরু হয়ে তার উপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের পালা।

সংবাদ সম্মেলনে সাবিহা বলেন, প্রথম বিয়ের বিষয়টি জেনেই আব্দুল্লাহ তাকে বিয়ে করেছিলো এবং বলেছিলো বিয়ের ব্যাপারটি পরিবারের লোকজনের নিকট কিছুদিন গোপন রাখতে। ভোলপাল্টে এনিয়েই সাবিহার নিকট যৌতুকের দাবী শুরু করলো তার স্বামী স্বামী আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের লোকেরা।

স্বামীর পরিবারের লোকজনের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাবিহা তার বাবার বাড়ি রংপুরে চলে যায়। ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর আব্দুল্লাহ দেশে ফিরে ২৭ নভেম্বর রংপুরে গিয়ে পিত্রালয়েই সাবিহাকে নির্দয় ভাবে পিটিয়ে মারাত্বক আহত করে পালিয়ে আসে।

এঘটনায় ৫দিন রংপুর মেডিকেলে চিকিতসা নিয়ে বাসায় ফিরে রংপুর কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করেন সাবিহা সেইসাথে রংপুর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে স্বামী মো: আব্দুল্লাহ,ননদ ফাতেমা বেগম,শরিফা বেগম,মরিয়ম বেগম এবং দেবর আবু বক্কও সিদ্দিক ও মো: সাদেকুল ইসলামকে আসামী করে একটি মামলা করেছেন। এছাড়াও বিষয়টির ব্যাপারে বিচার প্রার্থনা করে ডিআইজি রংপুর এবং পুলিশ সুপার দিনাজপুরের কাছে অবিযোগ করেছেন সাবিহা।

অবস্থাবুঝে চতুর আব্দুল্লাহ ২২ ডিসেম্বর ২০১৮ পারিবারিক ভাবে রংপুর থানায় বসে মিমাংসা করে সাবিহাকে আবারো নিজ বাড়ি বোচাগঞ্জে নিয়ে আসে এবং একদিন পর ২৪ ডিসেম্বর রংপুরে শশুড়ালয়ে রেখে আসে। এরপর ৭ জানুয়ারী আবারো সাবিহাকে রংপুর থেকে আব্দুল্লাহর বাড়ি বোচাগঞ্জে আনে এবং ৩দিন পর যৌতুকের দাবীতে আবারো বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

সাবিহা বলেন, যৌতুক লোভি আব্দুল্লাহ বিবাহিত স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিয়ে পরিবারের লোকজনের কথায় আবারো নতুন করে বিয়ে করার ষড়যন্ত্র করছে। সাবিহা দাবী করেন যৌতুক লোভী আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করে দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি দেয়া হউক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য