সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন রেলপথমন্ত্রীমো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়াগন ক্রয়সহ সার্বিক ক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বি করে তোলা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

জনবল নিয়োগসহ কিছু কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। অন্য বিষয়গুলো নিয়ে দ্রুত কার্যক্রর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেজন্যই মূলত: রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন এবং এখানকার সমস্যাগুলো জেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার উদ্দেশ্যেই আমার আগমন। নতুন রেলপথ মন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ২২ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তার ৫দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের প্রারম্ভে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি এসময় আরও বলেন, রেল তথা ট্রেন জনমানুষের বাহন। এক্ষেত্রে উন্নয়ন মানেই তৃণমূল পর্যায়ের পরিবহন সেক্টরের উন্নয়ন। তাই শেখ হাসিনার সরকার সব সময়ই রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ইতিমধ্যে রেলওয়ের বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে।

মহাজোট সরকারের পূর্বের সরকার রেলওয়েকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ মৃতপ্রায় রেলওয়েকে আবারও পূন:জীবিত করেছে। তারই অংশ হিসেবে এই রেলওয়ে কারখানারও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ভারতের সহযোগিতায় সৈয়দপুরে আরও একটি রেলওয়ে কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে নতুন নতুন কোচ নির্মাণ করা হবে।

তার আগে এই রেলওয়ে কারখানার সে সকল সমস্যা রয়েছে তা সমাধানেও উদ্যোগ নেয়া হবে। এজন্য জনবল সংকট দূর করতে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্য সমস্যাগুলোও খুব অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে। এর ফলে নতুন নতুন কোচ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এতে রেলওয়ের কোচ বা ওয়াগনের চাহিদা নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে পূরণ করা যাবে এবং বিদেশ নির্ভরতা কমে যাবে। সেসাথে এ কারখানার উৎপাদিত ওয়াগন সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিদেশেও রপ্তানী করা সম্ভব হবে। এরকম পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

মন্ত্রী এসময় আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আরও একটি রেলওয়ের সেতু নির্মাণ করা হবে। জাপানী অর্থায়নে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য উত্তরাঞ্চলের রেলপথগুলো চার লেন বিশিষ্ট করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে আমাদের পরিবহন সেক্টরের অচলবস্থা অনেকটাই দূর করা যাবে। এক্ষেত্রে রেলওয়েই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই রেলওয়ের উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে ২শ’ ৫০টি রেলকোচ আমদানী করা হচ্ছে। এগুলো দিয়ে একাধিক যাত্রীবাহি ট্রেন চালানো হবে। আগামী ৫ বছরে রেলওয়ের ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে মন্ত্রী জানান।

এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌছেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় আসলে তাকে সেখানে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান হয়। এসময় তার সাথে ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আহসান আদেলুর রহমান আদেল, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোফাজ্জল হোসেন, অতিরিক্ত মহা পরিচালক (আরএস) সামসুজ্জামান, পঞ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার শহিদুল হক, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকার, সৈয়দপুর রেলওয়ের বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মো: জয়দুল ইসলাম, নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল, সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো: মোখছেদুল মোমিন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ। প্রথমেই তারা কারখানার অদম্য স্বাধীনতা চত্বরে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন। পরে রেলওয়ে কারখানার প্রতিটি ওয়ার্কসপ ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলেন।

এরপর মন্ত্রী বিভাগীয় তত্বাবধায়কের সম্মেলন কক্ষে রেলওয়ের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে রেলওয়ের উন্নয়ন বিষয়ে মত বিনিময় করেন। দুপুরে সৈয়দপুর রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে প্রীতিভোজ শেষে তার নিজ এলাকা পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার উদ্দেশ্যে সড়ক পথে রওনা করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য