আদিতমারীতে জনবসতি এলাকায় অনুমোদনহীন ইটভাটাআজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র,নেই জেলা প্রশাসকের অনুমোদন। কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার পরেও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ইটভাটা।

ইটভাটার অনুমোদন না থাকলেও ইট তৈরির কার্যক্রম বন্ধ নেই। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবাধে ইট তৈরি করেই চলছেন অনুমোদন বিহীন ইটভাটার মালিক ফারুক হোসেন। তিনি কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেন না।

শুধু তাই নয়,ইটভাটায় আগুন দেয়ার জন্য ভাটা সংলগ্ন এলাকায় স্তুুপ করে রাখা হয়েছে খড়ি। যে কোন সময় ইট পোড়ার কার্যক্রম শুরু করবেন বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।

সরেজমিন আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দেওডোবা বাজার থেকে ৫ শ দূরে এএফএইচ নামের একটি অনুমোদনবিহীন ইটভাটা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেছেন। ইটভাটা তৈরীর শুরুতেই এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকলেও এসব অভিযোগ তোয়াক্কা আমলে নেয়নি কেউ।

বর্তমানে ভাটাটিতে চলছে ইট তৈরির কার্যক্রম। তবে এখন পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি। শুধু চলছে মাটি দিয়ে ইট তৈরি করে মজুদ রাখার কার্যক্রম। দু’এক দিনের মধ্যে ভাটায় আগুন দেয়া হবে বলে এলাকাবাসী দাবী করছেন।

এদিকে ইটভাটার চারিদিকে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি থাকায় ইটভাটাটি চালু হলে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন সেখানকার সাধারন লোকজন। তারা দ্রুত অনুমোদনবিহীন এএফএইচ নামের ইটভাটাটি বন্ধের জোর দাবী জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, এএফএইচ ইটভাটার মালিক ফারুক হোসেন ও তার আরও দুই বন্ধু মিলে ইটভাটাটি গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরা তিন জনই বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করতেন বলে এলাকাবাসী দাবী করেন।

পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য রনজিৎ কুমার জানান,জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা চালু হলে সেখানকার লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। কিন্তু প্রশাসন অনুমোদন দিলে কিছুই করার থাকবে না। তিনি এটি বন্ধের জোর দাবী জানান।

এএফএইচ ব্রিকস এর মালিক ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, ইটভাটায় আগুন লাগানোর অনুমোদন দেয়া হয়নি। এরপরেও যদি ভাটায় আগুন লাগানো হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি দাবী করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য