তিস্তাপাড়ে চলছে মাছ ধরার মহোৎসবআজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: তিস্তায় পুকুর-বিল-জলাশয়গুলো থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। যতই পানি কমছে, ততই যেন মাছের দাপাদাপি বেড়ে যাচ্ছে।

বড়ই ‘অদ্ভুত সুন্দর’ সে দাপাদাপি! পানির ওপরে মাছ ভাসছে আর কিলবিল করছে।

গ্রামের বুড়ো থেকে শুরু করে দুরন্ত কিশোর, কে না গা ভাসাচ্ছে তিস্তার তর তাজা সেই মাছ ধরার নেশায়? তিস্তার কোথাও কোথাও পুকুর-জলাশয়ের পানি একেবারেই শুকিয়ে গেছে।

সেসব স্থানে জলকাদায় একাকার হয়ে দল বেঁধে নেমে পড়েছে কিশোরেরা। কেউ কেউ জালের সাহায্যে, আবার কেউ পুকুরে কাদা হাতড়িয়ে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল, দুপুর, বিকেল—বিরামহীন ভাবে চলছে মাছ ধরা। এ যেন এক মহোৎসব। মৎস্যজীবী ছাড়াও কেবল শখের বশেই তিস্তার বাসিন্দাদের অনেকে মাছ ধরায় মশগুল হয়ে পড়েছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার হাজিরহাট গ্রামের বাসিন্দা সাহেদ আলী বলেন ‘আগে পানি নামার এমন সময়টাতে (মাঘ মাস) নানা প্রজাতির দেশি মাছ ধরা পড়ত, এখন আর সেসব মাছ নেই। তবে যা পাওয়া যায়, সেসবের স্বাদও ভিন্ন। বিল-জলাশয়ের তাজা মাছের স্বাদই আলাদা।’

হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (৫২) জানান, মাঘ মাসের আগে-পরে তিস্তার ঘেঁষা বিল-জলাশয় গুলোর পানি কমতে শুরু করে। তখন স্থানীয়রা শখের বশে মাছ ধরতে নামেন, এটাই তিস্তার চিরাচরিত নিয়ম।

বাইম, গুথুম, পাবদা, বোয়াল, বাগাড়, শিং, মাগুর, আইড়সহ নানা সুস্বাদু মাছ ধরাও পড়ে। জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ডালিয়া গ্রামের আশপাশের তিস্তা-বিল-জলাশয় তীরবর্তী এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বয়স্ক ব্যক্তি থেকে কিশোরেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। বিল–জলাশয় গুলোতে চলছে মাছ ধরার উৎসব।

জেলার কয়েকটি ছোটখাটো বিলের পানি শুকিয়ে পড়ায় কয়েক দিন ধরে সেখানে চলছে টানা মাছ ধরার মহোৎসব। গতকাল কথা হয় প্রায় পনেরো বছর বয়সী আরিফুল ইসলাম ও রফিকুল মিয়া নামের দুই কিশোরের সঙ্গে। তারা অভিন্ন কণ্ঠে বলে, ‘পানি নামায় মাছ ধরতাছি।

পুঁটি, চান্দা, ইছা, বালিগড়া, টেংরা আরও অনেক অনেক মাছ। এক ঘণ্টা মাছ ধরলে ঝুড়ি ভরি যায়!’ লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলাই তিস্তার অধ্যুষিত অঞ্চল। সংগত কারণেই এখানে মাছের পরিমাণ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় একটু বেশিই। কার্তিকের শুরুতে পানি কমার কারণেই তিস্তাবাসী মাছ ধরার বিমলানন্দে মেতে উঠেছেন।’

রবীন্দ্রনাথ ছোটবেলায় ফেরিওয়ালাকে মাছ বিক্রি করতে দেখেছেন। সে স্মৃতি থেকেই তিনি ‘বালক’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ফেরিওয়ালা হেঁকে যেত গলির ও পার থেকে/তপ্সিমাছের ঝুড়িখানা গামছা দিয়ে ঢেকে’। সেই গামছা দিয়ে ঢেকে এই কার্তিক মাসেই তিস্তার গ্রামে গ্রামে তাজা মাছ বিক্রির ধুম পড়ে। এই মাসেই তাজা সুস্বাদু মাছ দিয়ে তৈরি পাতলা ঝোলের সুঘ্রাণে মাতোয়ারা হয় তিস্তাবাসী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য