ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ টাকায় এক কে‌জি ট‌মে‌টো, বিপাকে চাষীমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: বিভিন্ন জেলা থেকে টমেটো আসার কারণে বিপাকে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় টমেটো চাষিরা। প্রথমে ৪০ টাকা কেজি দরে বাজার শুরু হলেও বর্তমানে বাজারে টমেটো প্রতি কেজি ৪ দরে বিক্রি হচ্ছে। রোববার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের গবিন্দনগর কাঁচা বাজরের আড়ৎ এ দেখা গেছে প্রতি ক্যারেট ২৫ কেজি টমেটো ১শ টাকা দরে রিক্রি হতে। এতে স্থানীয় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম সবজির চাষ হয়েছিল। স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ি চাষিরা টমেটোর চাষ করেছেন। অন্য জেলা থেকে টমেটো ঠাকুরগাঁওয়ের বাজারে আসার কারণে দাম অনেক কমেছে বলে দাবি স্থানীয় চাষিদের। তবে পাইকারী বাজারে দাম কমলেও খুজরা বাজারে এখনও ১২-১৫ টাকা দরে টমেটো বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার আখানগর এলাকার টমেটো চাষি আব্দুল হালিম বলেন, প্রতি বারের ন্যায় এবারও ২ একর জমিতে আগাম টমেটোর চাষ করেছি। মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার টাকা বিক্রি করে পেয়েছি। প্রথমে স্থানীয় বাজারে ৪০ টাকা প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি করলেও এখন আড়তে ৪ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। শীত কালে আগাম টমেটো চাষ বেশি ঝুঁকি সেই সাথে বেশি লাভের আশায় চাষ করি। তবে টমেটো পাকাতে কিছুটা ঝাঁমেলা আছে। গাছ থেকে পরিপক্ক কাঁচা টমেটো সংগ্রহ করে ২-১ দিন স্তুপ করে ঢেকে রাখতে হয় না হলে ভাল রং আসে না। আর রং না আসলে বাজারে চাহিদা কম থাকে। বর্তমান বাজারে টমেটো বিক্রি করে অসল টাকা কোন মতে তুলতে পারলেও লাভবান হতে পারব না।

একই উপজেলার কচুবাড়ি মাটিগাড়া এলাকার মোখলেসুর রহমান বলেন, ১ একর জমিতে টমেটোর চাষ করেছি প্রথমে ভাল দাম পেলেও এখন দাম অনেক কম। বর্তমান বাজারে বিক্রি করে আসল টাকা তুলতে পারব না।

ঠাকুরগাঁও রোড বাজারে বাজার করার সময় সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের শামসুজ্জুহা বলেন, টমেটো কেনার সময় ২০ কেজি চাইছে ১৫ টাকা দরে কিনেছি। টমেটোর দাম কমেছে আমরা জানি না। সরকারি ভাবে বাজার মনিটরিং করা হলে ব্যবসায়িরা আমাদের কাছে যে কোন পণ্য চড়া দামে বিক্রি করতে পারতো না।

ঠাকুরগাঁও কাঁচা বাজারের আড়ৎদ্বার ফজলু বলেন, বাজারে যখন শুধু মাত্র ঠাকুরগাঁওয়ের টমেটো বিক্রি হতো তখন দাম ভাল ছিল। এখর আড়তে রাজশাহী এলাকার টমেটো বাজারে আসার কারণে দাম কমে গেছে। টমেটো বেশি দিন রাখা যায় না যদি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে স্থানীয় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। পাইকারী বাজারে দাম কমলেও খুজরা বাজারে না কমার বিষয়ে তিনি বলেন, ক্রেতারা বর্তমান বাজার না জানার কারণে খুজরা ব্যবসায়িরা বেশি দাম নিতে পারে। তবে ক্রেতারা যদি দাম করে বাজার করে তা হলে ভাল হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, বাজারে প্রথমে টমেটোর দাম থাকলেও বর্তমানে অন্য জেলা থেকে টমোটো আসার কারণে পাইকারী বাজারে কিছুটা কমে গেছে। তাছাড়া টমেটো বাজারে একসাথে আসার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাহিরের টমেটো আসা বন্ধ হলে দাম কিছু রাড়তে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য