মারজিয়া হাশেমির মুক্তির দাবিতে তেহরানে বিক্ষোভইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির খ্যাতিমান উপস্থাপিকা মারজিয়া হাশেমির আটকের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে তেহরানে সুইস দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। ইরানে আমেরিকার স্বার্থ দেখাশুনা করে সুইস দূতাবাস।

বিক্ষোভকারীরা মারজিয়া হাশেমিকে আটক করার ঘটনায় মার্কিন সরকারের নিন্দা করেন। এসময় তাদের হাতে নানা স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড ছিল। বিক্ষোভে বেশিরভাগই নারীরা অংশ নেন এবং তারা শিগগিরি মারজিয়া হাশেমির মুক্তি দিতে মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম কর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরাও অংশ নেন।

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী মার্জিয়ার আগের নাম ছিল মেলানি ফ্রাঙ্কলিন। খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা এই নারী পরিণত বয়সে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থপতি ইমাম খোমেনি (রহ.)’র চিন্তাদর্শনে প্রভাবিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। একজন ইরানি নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজের জন্য মার্জিয়া হাশেমি নাম বেছে নেন।

তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভির সাংবাদিক ও নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাকে গত রোববার আমেরিকার মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইস ল্যাম্বার্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। কিন্তু মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে দেয়া হয় নি এবং এই দুই দিন তিনি কার্যত নিখোঁজ ছিলেন।

মার্জিয়া হাশেমি নিজের অসুস্থ ভাইকে দেখতে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আমেরিকা সফরে গিয়ে বিমানবন্দরেই আটক হন। তিনি তার মেয়েকে জানিয়েছেন, তাকে হ্যান্ডকাফ ও ডাণ্ডাবেরি পরানো হয়েছে এবং তার সঙ্গে দাগী আসামীর মতো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রেস টিভির এই ধর্মপ্রাণ নারী সাংবাদিক আরো জানিয়েছেন, মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী জোর করে তার হিজাব খুলে ফেলে সেই অবস্থায় তার ছবি তুলেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য