তেলের পাইপে বিস্ফোরণ মেক্সিকোতে নিহত বেড়ে ৭৩মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে সন্দেহভাজন তেল চোরদের ছিদ্র করা একটি তেলের পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটে অন্তত ৭৩ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষগুলো একথা জানিয়েছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হিদালগো রাজ্যের লাউয়ালিলপান শহরের কাছে ঘটনাটি ঘটে। এটি মেক্সিকোর তেলের পাইপলাইনে ঘটা দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা।

ছিদ্র দিয়ে পড়তে থাকা তেল কন্টেইনারে ভরে নিতে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে হুড়োহুড়ি করছিলেন, প্রায় উৎসবের মতো পরিস্থিতিতে হঠাৎ বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণের ধাক্কায় জড়ো হওয়া লোকজন চারদিকে ছিটকে পড়েন। পরনের কাপড়ে আগুন ধরে তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।

হিদালগোর গভর্নর ওমর ফায়াদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ৭৩ জন নিহত ও ৭৪ জন আহত হয়েছেন।

আহত অনেকের অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আহত কয়েকজনের শরীরের অধিকাংশই পুড়ে গেছে। মারাত্মক আহত অল্প বয়স্কদের অধিকাংশকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পাঠানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হিদালগোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল আরোয়ো জানিয়েছেন, ৫৪টি দেহ এত বেশি পুড়ে গেছে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে।

মেক্সিকোর নতুন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর তেল চুরি রোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে ওই এলাকায় পেট্রল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ৫০ বছর বয়সী কৃষক ইসাইয়াস গার্সিয়া বলেন, “স্টেশনগুলোতে গ্যাস না থাকায় তাদের গাড়ির জন্য একটু গ্যাসোলিন সংগ্রহ করা যায় কি না সেই উদ্দেশ্যে সবাই এসেছিল।”

ঘটনার সময় দুই প্রতিবেশীসহ গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে অপেক্ষা করছিলেন গার্সিয়া।

“জ্বলতে জ্বলতে ও চিৎকার করতে করতে কিছু লোক বের হয়ে আসে,” বলেন তিনি।

স্থানীয় সময় রাত শুক্রবার ১২টার সময় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মেক্সিকোর জননিরাপত্তামন্ত্রী আলফোনসো দুরাজো।

তেল চুরি রোধ করতে ডিসেম্বরের শেষ দিকে পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়ার আদেশ দেন ওব্রাদর। কিন্তু এতে হিদালগোসহ মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। স্থানীয় গণমাধ্যম চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, অর্ধেকেরও বেশি গ্যাস স্টেশন একই সময় বন্ধ ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের আগে দিনের আলোতে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতিতে লোকজন পাইপলাইন থেকে বালতি ও কন্টেইনারে তেল ভরছে।

শনিবার প্রথম প্রহরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট লোপেজ ওব্রাদর।

সৈন্যরা উপস্থিত থাকার পরও এমন শোচনীয় ঘটনা কেন সামাল দেওয়া গেল না এ প্রশ্নে তিনি বলেছেন, অনেক লোকের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানোর সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী ঠিকই ছিল, মেক্সিকোর দৈনিক নূন্যতম মজুরির চেয়ে বেশি দামি কয়েক লিটার তেল সংগ্রহে তখন বহু লোক জড়ো হয়েছিল।

এই বিপর্যয়ের জন্য আগের সরকারগুলোকে দায়ী করেছেন তিনি। সামাজিক সমস্যা ও সুযোগের অভাবে এই লোকজন তাদের জীবনের ঝুঁকি নিতেও পরোয়া করছে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এই লোকজনের জীবনমানের উন্নয়নকেই তার সরকার বেশি গুরুত্ব দিবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তার গৃহীত পদক্ষেপের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এ ধরনের কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

বিবিসি জানিয়েছে, মেক্সিকোয় তেল চুরি ‘হুয়াচিকোলেও’ নামে পরিচিত এবং কিছু কিছু এলাকায় এটি বাধাহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। হুয়াচিকোলেওর কারণে গত বছর দেশটির তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

মেক্সিকোর রাষ্ট্রীয় পেট্রলিয়াম কোম্পানি পেমেক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অবৈধ আঘাতের’ কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত্র হয়।

‍অতীতেও পেমেক্সের পাইপলাইনে এ ধরনের বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে।

২০১৩ সালে মেক্সিকো সিটিতে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে ‍বিস্ফোরণে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়। তার আগের বছর পেমেক্সের একটি গ্যাস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন প্রাণ হারায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য