দিনাজপুর সংবাদাতাঃ গত ১৮-০১-২০১৯ তারিখে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত “শিক্ষকদের আন্দোলনে হাবিপ্রবি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা” সংবাদটি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি সত্য নয় ও বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নি¤েœ তুলে ধরা হয়েছে।

আগামী ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ৪ দিনব্যাপি প্রথম বর্ষের ¯œাতক পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্ততি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ভর্তি পরীক্ষা ভালোভাবে সুসম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, গত দু’মাস যাবত ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপক তাঁদের অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের দাবিতে এবং গত ১৪ নভেম্বর ও ২৯ নভেম্বর ২০১৮ হাবিপ্রবিতে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ক্লাশ পরীক্ষা বর্জন করে আসছে। তাদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে হাবিপ্রবি-এর “প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম” ক্লাশ পরীক্ষা বর্জন করে আসছে।

তাদের এই কর্মকান্ডের ফলে মূলতঃ দুইটি অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত ১৫ জানুয়ারি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, অবিলম্বে বিশ^বিদ্যালয়ের বন্ধ থাকা ক্লাশ পরীক্ষা চালু হবে, আগামী ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত ভর্তি পরীক্ষা ২০১৯ যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে, সদ্য আপগ্রেডেশন প্রাপ্ত ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপকগণের অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট প্রদানের সকল সম্ভাবতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং উপাচার্য নিজে তাদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবেন এবং গত ১৪ নভেম্বর ও ২৯ নভেম্বর ২০১৮ যে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তের জন্য বর্তমান তদন্ত কমিটি পুণর্বিন্যাস অথবা নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে- যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ঐ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে এ তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও বিশ^বদ্যিালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপকের অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট ও এটাকে কেন্দ্র করে ১৪ নভেম্বর ও ২৯ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে সৃষ্ট সমস্যা নিরসনের লক্ষে ১৯ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এ সকল সিদ্ধান্তের ফলে আন্দোলনরত ৫৭ জন সহকারী অধ্যাপকগণের অধিকাংশ কর্তৃপক্ষকে জানায়, তারা আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। কিন্তু প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম জানায়, তারা দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না।

কর্তৃপক্ষ প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামকে জানায়, সমস্যা সমাধানে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা সত্ত্বেও তারা যদি ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে তা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এমতাবস্থায় কর্তৃপক্ষ আশা করে অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা একটি জাতীয় ইস্যু। সারা দেশের লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করবে। বিশ^বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। এ ব্যাপারে সকল গণমাধ্যমের সহযোগিতাও একান্ত কাম্য করেছে হাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। ১৯ জানুয়ারী শনিবার সকালে হাবিপ্রবি’র জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. শ্রীপতি সিকদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য