দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিরলে এক গর্ভবতী গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় এক ইউপি সদস্যকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিরল উপজেলার ৪নং শহরগ্রাম ইউপি’র শংকরপুর পাঁচশালা গ্রামের ওসমান আলীর পুত্র আব্দুর রহিম (২৫) প্রায় বছর দু’য়েক আগে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার হাটপাড়া গ্রামের শুকুরদ্দি এর কন্যা খাদিজা খাতুন (২০) কে বিয়ে করে ঘরে তুলে।

তারপর কারণে অকারণে গৃহবধূ খাদিজাকে মারপিট করতো স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ীর লোকজন। গত ১৪ জানুয়ারী সোমবার রাতে খাদিজার উপর আবারোও অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পর দিন ১৫ জানুয়ারী মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিত গৃহবধূ খাদিজাকে পাশ্ববর্তী বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার বাদী শুকুরদ্দি জানান, ঐ দিন বেলা ১১ টার দিকে খাদিজা মারা গেছে বলে তার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন মুঠোফোনে কল দিয়ে জানায়। তিনি সাথে সাথে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্য-মান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে কন্যার শ্বশুরবাড়ীতে পৌছলেও তাঁকে কন্যা খাদিজার লাশ দেখতে দেয়া হয়নি।

এক পর্যায় সে তাঁর কন্যা খাদিজার লাশ তাঁর বাড়ীতে নিয়ে যেতে চাইলে তাঁকেসহ তাঁর লোকজনকে একটি ঘরে জোরপূর্বক আটক করে রেখে তিনশত টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সহি করে নিয়ে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় গৃহবধূ খাদিজার লাশ দাফন করে শ্বরবাড়ীর লোকজন।

এঘটনায় ১৮ জানুয়ারী শুক্রবার খাদিজার পিতা শুকুরদি বাদী হয়ে ৮জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরোও ৯-১০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে বিরল থানায় একটি মামলা নং ১৮, ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধীত- ২০০৩) এর ১১(ক)/৩০ তৎসহ দঃ বিঃ ২০১, ৩৪২ ও ৩৮৬ আইনে মামলা দায়ের করে।

মামলার প্রেক্ষিতে ঐদিন বিকালে মামলার এজাহার নামীয় আসামী শহরগ্রাম ইউপি’র ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোশারফ হোসেন (৩৮) গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে বিরল থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিরল থানার ওসি (তদন্ত) সুজয় কুমার রায় জানান, মামলার তদন্ত চলছে।

এজাহার নামীয় আসামী শহরগ্রাম ইউপি’র ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মোশারফ হোসেন (৩৮) কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। তিনি জানান, শীঘ্রই আদালতের অনুমতি নিয়ে ময়না তদন্তের জন্য ঐ গৃহবধূ খাদিজার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য