দিনাজপুর সংবাদাতাঃ জ্যান্ত পোকামাকোড় খাওয়া উদ্ভিদের চিত্র হরহামেশাই দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার কোন ভিডিও চিত্রে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা গেলেও বাংলাদেশে এধরনের উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়ার বিরল ঘটনা বললেই চলে।

সম্প্রতি দিনাজপুর সরকারি কলেজেল উদ্ভিদ বিজ্ঞানের একজন সহকারি অধ্যাপক কলেজের পেছনের পরিত্যাক্ত নির্জন এলাকায় খোজ পেয়েছেন এমনই এক উদ্ভিদের। উদ্ভিদটির নাম দেয়া হয়েছে “সুর্য শিশির”।

এই উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘Drosera Rotundifolia’ (ড্রোসেরা রোটুনডিফোলিয়া)। দিনাজপুরে জন্মানো এই গাছটি নিয়ে গবেষনা হলে বাংলাদেশের উদ্ভিদ বৈচিত্রের সহায়ক হবে বলে আশা ব্যাক্ত করেন কলেজের সংশ্লিষ্টরা।

দেখতে কিছুটা জবা ফুলের মত হলেও ততটা বড় কিন্তু না, মাত্র ৪/৫ সেন্টিমিটারের একটি গোলাকার উদ্ভিদের কেন্দ্রে দু’তিন ইঞ্চি লম্বা পুষ্প মঞ্জুরি রয়েছে। আর গাছটির প্রতিটি পাপড়ি বা পাতায় রয়েছে ছোট ছোট অসংখ্য ধারাল কাটার মত আকোড় এবং সুগন্ধি যুক্ত মিউকাস আঠা।

এই আঠার সুগন্ধে আকৃষ্ট হয়ে পোকা মাকোড় গাছটিতে এসে পড়লে কাটা আর আঠায় আটকে যায়। এরপর ধিরে ধিরে গাছটি পতঙ্গের শরীর থেকে সমস্ত রস সুষে নেয়, যার কারনে সেই পতঙ্গটির মৃত্যু ঘটে।

উদ্ভিদটির সন্ধান পাওয়া দিনাজপুর সরকারি কলেজেল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি গত ১৫ জানুয়ারি ১৯ইং কলেজের মাঠে এ ধরনের মাত্র তিনটি উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন।

দিনাজপুর সরকারি কলেজেল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের আরও একজন সহকারি অধ্যাপক জানান, সাধারনত উদ্ভিন সালোক সংশ্লেষণ (photosynthesis) পদ্ধতিতে তাদের খাদ্য তৈরি করে থাকে। কিন্তু ‘Drosera Rotundifolia’ (ড্রোসেরা রোটুনডিফোলিয়া) প্রজাতির উদ্ভিদ সাপ্লিমেন্টরি বা সম্পূরোক প্রটিন হিসেবে পতঙ্গ গুলি খায়। এটা বাস্তু তন্ত্রের গুরুত্ব পূর্ণ উপাদান হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন এই উদ্ভিদ সংরক্ষন করা আমাদের দায়িত্ব।

গাছটি দেখতে দিনাজপুর সরকারি কলেজের মাঠে অসংখ্য মানুষের ভিড় লেগে থাকছে, যা উদ্ভিদ গুলির স্বাভাবিক জীবন ধারনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য