মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা বানিয়াপাড়া এলাকায় খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪টি গরু মারা গেছে।

প্রাণী সম্পদ অফিসের লোকজনের অসহযোগিতার কারণে ১০দিন ধরে আক্রান্ত গরুগুলো যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন গরুর মালিকেরা। বিগত ৩দিনে ওই গরুগুলো মারা যায় এবং এখনও প্রায় ১৫ টি গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ।

জানা যায়, প্রায় ১০দিন পূর্বে হাতিখানা বানিয়াপাড়ার ওহিদুল ইসলামের ৩টি গরুর খুরা রোগ দেখা দেয়। তারা তাৎক্ষনিক সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে জানালেও কেউ না আসায় বাধ্য হয়ে বাইরের গ্রাম্য পশু ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা করায়।

ইতিমধ্যে প্রতিবেশী নুরুল হক ও হৃদয়েরও ২টি গরু আক্রান্ত হয়। তারা পশু সম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলে তাদের জানানো হয় যে, পশুগুলো হাসপাতালে নিয়ে আসেন। নতুবা বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করালে যাতায়াতের জন্য তেল খরচ, ভিজিট ও ঔষুধ-ইনজেকশনের দাম দিতে হবে।

একারনে তারা স্থানীয় পশু চিকিৎসকের শরনাপন্ন হন। এমতাবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারী বুধবার নুরল হক, আনিছুর ও হৃদয়ের একটি করে বলদ গরু মারা যায়। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনামুল হককে জানালে তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তাদেরকে আগে জানানো হয়নি বলে জানান।

এসময় তিনি খুরা রোগে আক্রান্ত অন্যান্য পশুগুলোর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেন। তিনি জানান, গবাদী পশুর যে কোন সমস্যার কথা আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করি। কিন্তু আমাদের লোকবল কম থাকায় হয়তো একই সময়ে একাধিক জায়গা থেকে ডাক আসলে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনা। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকি।

এ ঘটনাটি একেবারে ব্যতিক্রম, কেননা তারা আমাদের জানায়নি। আর জানালেও সে সময় হয়তো আমাদের লোকজন অন্য জায়গায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পশু মালিকেরা স্থানীয় চিকিৎসকদের দেখানোর ফলে আমাদের আর না জানানোয় এমন ঘটনা ঘটে থাকে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য