প্রেমের কারণে কুপিয়ে হত্যা করা হয় স্বপনকেআজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের বিদ্যাবাগিস এলাকার স্বপন চন্দ্র রায় খুনের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

প্রতিবেশী এক মুসলিম মেয়ের সঙ্গে প্রেম নিয়ে বিরোধের জেরেই তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) হাসান ইকবাল চৌধুরী।

এই হত্যা মামলার মূল আসামিসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার বিকালে লালমনিরহাট সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান ইকবাল চৌধুরী ছাড়াও সেখানে উপিস্থত ছিলেন লালমনিরহাট সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মাহফুজ আলম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোজাম্মেল হক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ জানায়, বাড়বাড়ী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আনছার আলীর মেয়ের সঙ্গে প্রতিবেশী বিনোদ চন্দ্র রায়ের ছেলে স্বপন চন্দ্র রায়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বপনকে এ নিয়ে কয়েকবার সতর্ক করা হয়।

গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্বপন চন্দ্র রায় আফরিনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিষয়টি নিয়ে অমিজা বেগম মেয়ের সঙ্গে রাগারাগি করেন। এশার নামাজ শেষে আফরিনার বাবা আনছার আলী বাড়ি ফিরলে অমিজা বেগম ঘটনা খুলে বলে।

প্রতিবেশী আব্দুল মজিদ, মাহবুবার রহমান, নরেশ চন্দ্র রায় ও আনছার আলী এরপর স্বপন চন্দ্র রায়কে তার বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পাশেই প্রভাষক মিঠুর আবাদী ফাঁকা জমিতে যায়।

ওই দিন রাত অনুমান ১০টার দিকে মাংস কাটার ধারালো দা দিয়ে স্বপনের মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখে। আসামিরা পরস্পর পরামর্শ করে না পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং উল্টো পুলিশকে বিভিন্নভাবে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার তদন্তে সন্দেহ হলে ১৩ জানুয়ারি প্রথমে আফরিনার বাবা আনছার আলী ও তার স্ত্রী অমিজা বেগমকে থানায় ডেকে নেয় পুলিশ। আনছার ও অমিজার কথা মতো একই দিন পুলিশ ডেকে নেয় আব্দুল মজিদ ওরফে উড়ি মজিদকে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বপনকে হত্যার নেপথ্য কারণ স্বীকার করলে তাদের তিন জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১৪ জানুয়ারি লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মন্ডলের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তারা অভিযোগ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতে তিন আসামির দেওয়া জবানবন্দি মতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নরেশ চন্দ্র রায় ও মাহবুবার রহমানকে ১৪ জানুয়ারি গ্রেফতার করা হয় এবং ১৫ জানুয়ারি একই আদালতে তাদের সোপর্দ করা হয়।

আদালতে স্বপনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তারাও।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘অসম (হিন্দু-মুসলমান) প্রেমের কারণে জীবন বলি দিতে হয়েছে স্বপনকে। প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৌশলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। শিগগিরই আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’

নিহত স্বপন চন্দ্র রায় বড়বাড়ী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যাবাগিস এলাকার বিনোদ চন্দ্র রায়ের ছেলে। গত ৭ জানুয়ারি সাদেকনগর এলাকায় তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন ৮ জানুয়ারি স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বড় ভাই গোবিন্দ চন্দ্র রায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে সদর থানায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোড দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য