আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী আর হিমালয় পর্বত ঘেষা জেলা লালমনিরহাট। দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এ জেলায় শীতের প্রকোপ যেন একটু বেশীই। এবারের শীতেও এর ব্যতিক্রম নয়।

সারাদিন বইছে ঠাণ্ডা কনকনে বাতাস সেই সাথে হাড় কাঁপানো শীত। প্রচণ্ড শীতের কারণে একদিকে যেমন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের চলাফেরা কষ্ট হয়ে পড়েছে। অপরদিকে শীতের প্রকোপে ডায়রিয়া ও নিউমেনিয়াসহ শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল। সেখানে অভিভাবকরা তাদের শিশুদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ১৫ জনই শিশু। এদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমাইয়া আক্তার।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ বড়ভিটা এলাকার আবু বক্কর সকিনা দম্পত্তির ৫ মাস বয়সী জমজ মেয়ে সুমাইয়া ও সাদিকা গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের দেয়া পরামর্শে কয়েকদিন চেষ্টার পর লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেছেন।

কৃষক আবু বক্কর মেয়েদের সুস্থ করতে বাইরে থেকে তিনশ’ টাকার ওষুধ ও স্যালাইন কিনে এনেছেন। হাসপাতাল থেকে শুধুমাত্র মুখে খাওয়ার স্যালাইন দিয়েছে দাবি করে আবু বক্কর বলেন, নামে সরকারি হাসপাতাল। সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনে খাওয়াতে হয়। না ডাকা পর্যন্ত নার্স বা চিকিৎসক রোগী দেখেন না বা খোঁজ-খবর নেন না।

শহরের খোচাবাড়ি এলাকার রাসেল সরকারের ১১ মাস বয়সী মেয়ে রাদিয়াকে সকাল ১১টায় ডায়রিয়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জরুরি বিভাগের লেখা নির্দেশনাপত্র মোতাবেক সাড়ে তিনশ’ টাকার ইনজেকশন ও ওষুধ কিনে এনেছেন শিশুটির পরিবার। কিন্তু ভেইন খুঁজে না পাওয়ায় দেয়া হয়নি সেই ইনজেকশন। তাকে শুধু খাবার স্যালাইন দেয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে।

গত রোববার ডায়রিয়ার কারণে সদর হাসপাতালে হারাটি সরকারটারী এলাকার খরজামালের মেয়ে ফাতেমাকে (১০ মাস) ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বমি বন্ধ হলেও বন্ধ হচ্ছে না শিশুটির পাতলা পায়খানা। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন তার পরিবার।

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ জানায়, গত ৪০ ঘণ্টায় ৬৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে রেফার করা হয় ৫ জনকে। ভর্তিকৃতদের বেশির ভাগ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। যার অধিকাংশই শিশু।

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুমাইয়া আক্তার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শীতজনিত রোগে শিশু ওয়ার্ডে ১৫ জন ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও মেডিসিন ওয়ার্ডেও শীতজনিত রোগে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন মজুদ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক শিশু জেলার বাকি ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি রয়েছে। দিনে হালকা রোদ থাকলেও সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কাহিল হয়ে পড়ছে হিমালয়ের পাদদেশের লালমনিরহাট জেলার মানুষ। ঠাণ্ডার দাপটে নিদারুণ কষ্টে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। চরম কষ্টে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া ও চরাঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষ। সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা অব্যাহত রয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউর আরিফ জানান, শীতবস্ত্র হিসেবে ২৭ হাজার পিস কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। তার সব বিতরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য