ফুলবাড়ীতে ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কলম বিরতী, বিপাকে ভূমি মালিকগণষ্টাফ রিপোর্টারঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করার জের ধরে গত দুইদিন থেকে কলম বিরতী কর্মসূচি পালন করছেন, উপজেলার সকল ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। এতে বিপাকে পড়েছে উপজেলার ভূমি মালিকেরা।

জানা গেছে ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়াকে কেন্দ্র করে, গতকাল (১০ জানুয়ারী) বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায়, উপজেলার পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান সরকারকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করে পৌর এলাকার পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে নবীউল ইসলাম (৫৫) নামে এক ভূমি মালিক।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতে পৌর ভুমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান সরকার বাদি হয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৭। কিন্তু মামলা দায়ের হওয়ার পরেও নবীউল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায়, এখন ওই ভুমি মালিক নবীউল ইসলামকে গ্রেফতার ও তার সাস্তির দাবীতে গতকাল সোমবার থেকে কলম বিরতী কর্মসূচি পালন করছেন উপজেলার সকল ভুমি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

এদিকে উপজেলা সকল ভুমি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কলম বিরতী কর্মসূচি পালন করায় বিপাকে পড়েছেন উপজেলা ভূমি মালিকেরা। তারা ভুমি উন্নায়ক পরিশোধ কিংবা খাজ-খারিজ করতে এস ঘুরে যেতে হচ্ছে।

কলম বিরতীর দ্বিতীয় দিন আজ বেলা ১২ টায় মঙ্গলবার উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, শতশত ভূমি মালিক তাদের ভূমির বিভিন্ন কাজে এসে অফিসের সামনে ভির জমাচ্ছে। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কলম বিরতীর জন্য তারা কাজ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ভূমি অফিসে কাজ করতে আসা জাকিউর রহমান চঞ্চল বলেন, তিনি জমির খারিজ করতে এসেছেন কিন্তু অফিসে কাজ না হওয়ায় এখন তারা ফিরে যাচ্ছেন।

একই কথা বলেন এলুয়াড়ী গ্রাম থেকে আসা আশরাফ মিয়া, তিনি বলেন, তিনি খারিজের আবেন করার জন্য এলয়াড়ী থেকে এসেছেন, এখন তাকে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে। ভূমি অফিসে আসা শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামের লোকমান হোসেন, তিনি বলেন জমির খাজ না দেযার জন্য দুই দিন থেকে ঘুরছেন, কিন্তু কর্মকর্তরা খাজনা নিচ্ছেনা। একই কথা বলেন একই এলাকার তমছের আলী, আলাদিপুর ইউনিয়নের সমসের আলীসহ অনেকে।

মামলার বাদি পৌর ভুমি অফিসে কর্মরত ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান বলেন উপজেলা গৌরীপাড়া মৌজার ৬৮ নম্বর খতিয়ানের ১২৭ নম্বর দাগের ৪৮ শতাংশ জমির মধ্রে চার শতাংশ জমি নিয়ে, নবীউল ইসলামের বিরুদ্ধে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেড(এডিএম) আদালতে গৌরী পাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিম প্রধানের মেয়ে হাসনা হেনা বাদি হযে একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নম্বর ৪২৩-পি/২০১৮।

একই ভাবে পার্বতীপুর উপজেলা হরিহরপুর গ্রামের মোজাফ্ফর হোসেনের ছেলে রেজওয়ানুল হক বাদি হয়ে, একই আদালতে গৌরীপাড়া গ্রামের আব্দুল হাকিম এর স্ত্রী রেজিয়া খতিুন কে বিবাদি করে আরো একটি মামলা দায়ের করেন যার মামলা নম্বর ৪২৪-পি/২০১৮। মামলায় বর্নিত জায়গা পৌর ভুমি অফিসের অধিনে হওয়ায়, দুটি মামলা তদন্ত করার জন্য আদালত পৌর ভুমি অফিসের কমৃকর্তা হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেয।

তিনি তদন্ত করে গত ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এই তদন্ত প্রতিবেদনটি জৈনক্য নবীউল ইসলামের সরাসরি পক্ষে না হওয়ায়, গত ১০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার তার অফিসে এসে তাকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করেন।

ভুমি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান সরকার বলেন নবীউল ইসলাম এসে তাকে ার্তিকিত ভাবে অর্কত্র ভাষায় গালি-গালাজ করেছে তাকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করে, চড়থাপ্পর মেরে তার পকেটে থাকা ত্রিশ হাজার টাকা ছিন্তাই করে নিয়ে গেছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নবীউর ইসলাম মুঠো ফোনে বলেন ঘটনাটি এই রকম ছিলনা তর্ক-বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু (তহশিলদার) ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান বাড়ীযেছে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে, আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য