কোচিং বন্ধের নির্দেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে তৈরি করছে নতুন নতুন কোচিং সেন্টারমাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও: বর্তমান সময়ে সারাদেশে পুরোদমে চলে কোচিং বাণিজ্য। তবে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, প্রশ্নফাঁসরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ ও শিক্ষা প্রশাসন আরও কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। কর্ণপাত করছে না অনেকেই।

ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে কোচিং বাণিজ্যের রমরমা ব্যবসা। তৈরি করছে নতুন নতুন কোচিং সেন্টার।

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। ছাত্রত্ব রক্ষার জন্য অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে নামমাত্র ভর্তি হয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এসব কোচিং সেন্টারে ঝুঁকে পড়েছে। চটকদার বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আকৃষ্ট করে শিক্ষার পরিবেশ ও মানহীন এসব কোচিং সেন্টারগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় ঠাকুরগাঁও রোড ভাওলার হাটমোড়ের কিছু সামনে তৈরি করছে নতুন কোচিং সেন্টার এডভান্স কোচিং সেন্টার।

সেখানে কথা হলো এডভান্স কোচিং সেন্টার পরিচালক এর কথা জানতে চাওয়ায় জৈনিক ব্যক্তি বলেন আমার ছেলে এ কোচিং সেন্টার তৈরি করছে।তিনি কতক্ষানি পড়াশোনা করছেন জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, এইচ এস সি পাশ করে ভর্তি পরিক্ষা দিচ্ছে। এখনও চান্স হয়নি কোথাও।

এ প্রসঙ্গে এডভান্স কোচিং সেন্টার এর পরিচালক মোঃ আবিদ হাসান শান্ত এর মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোনটি বিজি দেখায় কেটে দেন।বেশ কয়েকবার ফোনদিলে ফোনটি রিসিভ হয়নি।

ঠাকুরগাঁও জেলার সরকারি স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ সহরের নামকরা বিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হতে এবং দ্বিতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভালো ফলাফলের আশায় বছরের শুরু থেকে বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলা কমপক্ষে অর্ধশতাধিক কোচিং সেন্টার শিক্ষার নামে বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে বহু কোচিং সেন্টার।এখানে পড়াতে শিক্ষার্থী প্রতি অভিভাবকদের প্রতি মাসে গুণতে হচ্ছে ৫শত থেকে ২ হাজার টাকা। এছাড়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনেকে ব্যক্তিগতভাবে সাইনবোর্ডবিহীন অনেক কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন।

এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ হারুন উর রশিদ বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারিভাবে এখনো কোন নীতিমালা আমরা পাইনি। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বা কোচিং কার্যক্রমের প্রতি কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এক্ষেত্রে কোনো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের গুণগতমানের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবুও অধিকাংশ শিক্ষার্থী আরো ভালো লেখাপড়ার আশায় কোচিং সেন্টারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এছাড়া কিছু অসাধু শিক্ষকও আছেন যারা তাদের নিকট প্রাইভেট পড়তে বা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে কৌশলগতভাবে শিক্ষার্থীদের উত্সাহী করেন। শ্রেণিতে শিক্ষকের আন্তরিকতাপূর্ণ পাঠদান এবং শিক্ষার্থীরা মনোযোগী হলে প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়াই ভালো ফলাফল সম্ভব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য