পানচাষবিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের চৌঘরিয়া, দামদরপুর, রণগাঁর, রামচন্দ্রপুর ও দাউদপুর গ্রামের পান চাষীরা পান চাষে আতœনির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

এ এলাকায় বাপ দাদা ও নাতিতে মিলে দীর্ঘদিন ধরেই পান চাষ করে আসছেন বলে পান চাষীদের অভিমত। পান চাষে উচুঁ বেলে দোআঁশ মাটি বেশ উপযোগি। বাঁশ, ছন, গুনা ও সুতলি পান চাষীদের পান বাগান বা বর্জের কাজে লাগে। বাঁশের সলি ও থিয়ন দিয়ে পিলি বানিয়ে পান চাষ হয়।

তবে অন্যান্য ফসলের ছেয়ে পান চাষে বেশী রাসায়নিক সার ও সার্বক্ষনিক পরিচর্জার দরকার হয়। এ সব এলাকায় প্রায় শতকরা আশিজন কৃষক চান চাষের সাথে সম্পৃক্ত। বিরামপুরের পান এখন রাজধানী ঢাকা শহরসহ দেশের সর্বত্রয় সরবরাহ হচ্ছে। জেলার সব উপজেলা থেকে বিরামপুর উপজেলায় পানচাষ বেশীহয় বলে এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে।

রামচন্দ্রপুর গ্রামের পান চাষী মাহালি, অরুন চন্দ্র, আতারুল মেম্বাবার জানান, অনেক আগে থেকেই আমরা পান চাষপান করে আসছি। এটা আমাদের পুরুনো পেশা। অন্যান্য ফসলের ছেয়ে পান চাষ আমাদের কাছে বেশ লাভজনক।

চৌঘরিয়া গ্রামের সুলতান মাহমুদ, নাসির উদ্দিন, তকিমুদ্দিন ওরফে ফেলু, দামদরপুরের নুরল ইসলাম, অহেদুল, রণগাঁও এর ওসমান, সাদ্দাম, সরিফুল ও দাউদপুরের মহাসিন মিজানুর কবিরাজসহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে পানের ব্যাপক চাহিদা ও বাজার মুল্য ভাল। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামশ্যে আগের ছেয়ে পান চাষে উন্নতি হচ্ছে। পান চাষ বেশ লাভজনক পেষা। অন্যান্য ফসলের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি ফসল হিসেবে তুলনা মুলক খরচ ও কম। তবে পান বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক লেবার লাগাতে হয়।

চাষীদের অভিযোগ দেশের সরকারি ব্যাংকে কৃষিঋনের ব্যবস্থা থাকলেও পানচাষের কোন কৃষিঋন তাঁরা পাননা। পান চাষের উপরে প্রশিক্ষন না থাকায় পানের পচাড়ি মড়কসহ নতুন নতুন রোগ সনাক্ত করতে ও প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহন করতে দেরি হওয়ায় ফসলের অনেক ক্ষতি হয়।

এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল জানান, জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্বাঅঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্রায় তিন’শ থেকে চারশতাধীক পানের বাগান রয়েছে। কৃষি অফিস থেকে পানচাষীদের পান চাষের জন্য সব ধরনের পরামশ্য দেওয়া হচ্ছে।

এই অর্থকারি ফসল পান চাষের জন্য ব্যাংক কৃষিঋনসহ পান চাষীদের পান চাষের উপরে প্রশিক্ষনের জন্য এলাকার সকল পানচাষী ও সর্বস্থরের সচেতনমহল সরকারের সংশ্লিষ্ঠ সকল দফতরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য