আলুর বাম্পার ফলনদিনাজপুর সংবাদাতাঃ কাহারোল উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে চলতি রবি মৌসুমে ৬টি ইউনিয়নে কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ২ হাজার ১ শত ১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করেছে।

দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় মাঠের পর মাঠ ছেয়ে গেছে আগাম জাতের আলুতে। কৃষকেরা আশা করছেন চলতি রবি মৌসুমে আলুর বামপার ফলন হবে।

এবছর উপজেলায় তেমন ধরনের বন্যা হয়নি এবং কি পর্যাপ্ত পরিমানে বৃষ্টিও হয়নি। এই কারণে রোপা আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে রবি শষ্যের উপযোগী জমিতে আগাম জাতের আলুর বীজ বপণ করেছেন। রোগ বালাই কম থাকায় অল্প দিনের মধ্যে আলুর গাছ গুলো ভরে উঠেছে জমিতে। ভালো ফলনের আশায় কৃষকেরা তাদের ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্থ সময় পার করছেন।

কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ১ শত ১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এ বছর উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। আলুর বাম্পার ফলনউপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন, মুকুন্দপুর ও ডাবর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আলু চাষিদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগীতা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আলুর গাছ অনেকটাই রোগ বালাইমুক্ত। সবুজ গাছগুলো হয়েছে সুঠাম।

উপজেলার রাম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামের কৃষক হাসিউর রহমান বলেন, এ বছর তিনি তার ৩বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। হিমাগারে বীজ রেখেছিলেন, সেই বীজ দিয়ে তিনি আলু চাষ করেছেন। আলুর গাছ দেখতে ভালো হয়েছে। তিনি আশা করছেন, এবার আলুর আসানুরূপ ফলন পাবেন। বর্তমানে আলুর দাম ভালো। দাম ভালো হলে বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে পুরাদমে ইরি-বোরো ধানের চাষ করতে পারবেন।

অপরদিকে সুন্দরপুর ইউনিয়নের আলু চাষি আবদুল জলিল বলেন, এ বছর প্রায় সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে কাটি লাল জাতের আলুর আবাদ করেছেন। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিনবা গাছে রোগ বালাই নেই। এ বছর আলুর বাম্পার ফলন পাবেন বলে তিনিও আশা করছেন।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহিম এর নিকট জানতে চাইলে, তিনি বলেন শুরুতেই আলুর ক্ষেতে নানা ধরনের পোকা মাকরের আনাগোনা দেখা দিলেও মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যথাযথ পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ কারিগরি সহযোগীতা দিয়ে আসছি। বর্তমানে আলুর গাছ প্রায় শতভাগ রোগ বালাইমুক্ত। তাই বাম্পার ফলন আশা করা যায়।

এই বিষয়ে কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর মোঃ সাদেক বলেন, এবার কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিগত বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরিমন আলুর চাষ হয়েছে। যথা সময়ে জমি চাষ যোগ্য হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা সুযোগ বুঝে আলুর আবাদ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন প্রকার ক্ষতি না হলে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য