বিরামপুরে আগর চাষে সম্ভাবনার হাতছানিদিনাজপুর সংবাদদাতাঃ গাছ আগরবাতি ও সুগন্ধি উৎপাদনকারী গাছ। এই আগরের চাষ হচ্ছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিরামপুরে।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের কালিশহর শালবন এলাকায় ৪ হেক্টর জুড়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চাষ হচ্ছে আগর বাগান। জ্বালানি কাজে ব্যবহার ছাড়াও আগর কাঠ থেকে পারফিউম, তেল, আতর, সুগন্ধি, আগরবাতি, ওষুধ তৈরি হয়। অনেকেই তরল সোনা হিসেবেও বিবেচনা করেন সুগন্ধি ছড়ানো আতরকে। পরিত্যক্ত জমিতে বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দু’পাশে, পতিত জমি, টিলায় এগাছ লাগানোর উপযোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, শাখা-প্রশাখাবিহীন সোজা লম্বা দেখতে গাছটি এবং আকার আকৃতিতে অনেকটা শাল বা গজারি গাছের মতো। এ গাছে সাদা রঙের ফুল এবং ফল ক্যাপসুল আকৃতির হয়। আগর গাছের পাতা দেখতে অনেকটা লিচু বা বকুল গাছের পাতার মতো।

চরকাই ফরেষ্ট রেঞ্জের বীট কর্মকর্তা আব্দুল বারিক বলেন, পরিপূর্ণ বয়সে গাছ শুকিয়ে গেলে প্রায় ৬০-৭০ ফুট উচ্চতা হলে গাছটি কেটে ছোট ছোট টুকরা করে তা কিছু দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। এরপর কারখানায় বিশেষভাবে নির্মিত চুল্লিতে রেখে তাপ দেওয়া হয়। তাপ দেওয়ার পর বিশেষ ব্যবস্থায় আগর থেকে আগর অয়েল পাওয়া যায়। যা পরবর্তী সময় আতরসহ সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে গাছের টুকরো থেকে সলিড আগর পাওয়া যায়।

চরকাই ফরেষ্ট রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে এটি একটি পরীক্ষামূলক বাগান। মহামূল্যবান এগাছে ফুল আসে বর্ষা মৌসুমে ও ফল আসে তার ৩ মাস পরে। বালি ভর্তি প্যাকেটে বীজ বপন করে বীজতলা থেকে চারা জন্মানো হয়। আগরকাঠ সংগ্রহ করতে প্রায় ৩০ বছর বা বেশী সময় লাগে। অনেক সময় কৃত্রিম উপায়ে ১০ বছর পরে কাঠ সংগ্রহের উপযোগী করা হয়। আগরের গাছে আগর সংগ্রহ করার জন্য সারা গাছে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে রেখে দেওয়া হয়। উৎপাদিত আগরের সবচেয়ে বড় বাজার এখন মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এছাড়াও ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপানেও আগর রপ্তানি হয়।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পাল আগর পরিচর্যা বিষয়ে বলেন, আগর বাগানে ভার্মি কম্পোস্ট, কেঁচো সার, আইএসপি, এমডিএফ, ইউরিয়া, জিংক সার ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, আগর বাগানে সাধারণত শাকসবজি ও ডাল জাতীয় ফসল চাষ করা যায়। আদা এবং হলুদও চাষ করা হয়। তাছাড়া সুপারি, কফি, রাবার, এলাচ, পামগাছসহ অধিকাংশ বনজ গাছ আগর গাছের সাথে মিশ্র ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।

৩ নং খানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলি মন্ডল বলেন, প্রায় ১২ বছর আগে আমাদের ৬ জনের সহযোগিতায় সামাজিক বনায়নের আওতাভূক্ত চরকাই সদর বীটে এই আগরবাগান তৈরি হয়। রপ্তানিমুখী এ শিল্পের বিকাশে আগর গাছের উপর গবেষণা জোরদার, চাষ সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনাসহ প্রক্রিয়াজাতকরণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগগুলো গ্রহণ করলে শিল্পের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, ফলে দেশের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক হবে। এই অঞ্চলে শ্রমের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে ফলে গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য