বিরামপুরে শখের ড্রাগন ফল চাষ থেকে সফল বাণিজ্যদিনাজপুর সংবাদদাতাঃ প্রস্তাবিত জেলা শহর বিরামপুরের সীমান্ত কোল ঘেঁষে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের চাষ। উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এ.এইচ.এম কামরুজ্জামানের শখের বশে গড়ে তোলা এই বাগানে বর্তমানে ড্রাগন গাছের সংখ্যা প্রায় ১২’শ। শুধু ড্রাগনই নয়, এতে আরো রয়েছে মালটা, কেরেলা ও ভিয়েতনাম নারকেল, সৌদি খেজুর, বিদেশী কলা, আমসহ উন্নত মানের বিভিন্ন বৃক্ষরাজী।

১৫০ বিঘা জমির উপর গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের এক পার্শ্বে রয়েছে একটি গরুর খামার। এতে গরু রয়েছে ৪০ টি। ভেতরে ৪০ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে পাঁচটি বিশাল পুকুর। পুকুরে রয়েছে জাপানী, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশী প্রজাতির মাছ। বিশাল এই প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে “ইজি এগ্রো ফার্ম”।

বছর তিনেক আগে শুরু হওয়া এই খামারে বর্তমানের সবমিলিয়ে ২৫ জনের মতো কৃষক প্রতিদিন কাজ করছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে এ বছর অনন্ত পাঁচ লাখ টাকা বিক্রি হতে পারে। এ বিষয়ে খামারের ম্যানেজার সাইফুর রহমান বলেন, নতুন এ ফল নিয়ে মানুষের বেশ আগ্রহ রয়েছে। ঢাকার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা রয়েছে।

খামারে স্বত্তাধিকারি কামরুজ্জামান ব্যবসার প্রয়োজনে প্রায় খামারের বাইরে থাকেন। তবে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ও পরামর্শে বিভিন্ন রোগ-বালাই দমন কীটনাশক ব্যাবহার করে সঠিক মাত্রাই চাষ কার্যক্রম চলছে বলে জানান প্রজেক্ট ম্যানেজার সাইফুর রহমান।

কীভাবে এই নতুন উদ্যোগের ধারণা পেলেন? জানতে চাইলে কামরুজ্জামান বলেন, ব্যবসার সুবাদে আমাকে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতে হয়। তাই, বিদেশে যা ভালো লাগে তাই সাথে করে নিয়ে আসি এবং দেশে ব্যবহারের চেষ্টা করি। এভাবেই শখের বসে গড়ে ওঠা ড্রাগন চাষ হয়ে উঠেছে বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, শিক্ষা অফিসার সহ উপজেলা প্রশাসনের একটি টিম বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। এছাড়াও দুর-দুরান্ত থেকে খবর পেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এখানে এসে এর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য উপভোগ করেন। সঠিক পরিচর্যা ও প্রশাসনিক সাপোর্ট পেলে ভবিষ্যতে এটি একটি পিকনিক স্পট হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, “বিরামপুরে এমন একটি উদ্যোগ দেখে আমার খুবই ভাল লেগেছে। তাঁর এই কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ অনুপ্রানিত হবে বলে আমি মনে করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিকছন চন্দ্র পাল জানান, “ড্রাগন অত্যন্ত লাভজনক একটি ফল। এর একটি পোলে ২-৩টি গাছ ঝাঁকড়া হয়ে বেড়ে ওঠে। একটি গাছে একবারে প্রায় ২০০-৩০০ টি ফল পাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি ফল”।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সম্পা আক্তার জানান, “আমরা বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে রোগ-বালাই, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে কিভাবে পরিত্রান পাওয়া যায় সেসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়া চাষিদের মাঝে এবিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে”।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য