কৃষি প্রধান জেলার দিনাজপুরে সেচের জল কিনতে হীমসিম খাচ্ছে কৃষক, গুরুত্ব নেই নদী খননেদিনাজপুর সংবাদাতাঃ নদী সভ্যতার ভারত বাহক। নদীর সাথে জড়িয়ে আছে একটি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট। নদী ছাড়া আধুনিক সভ্যতা কোন দেশে গড়ে উঠেনি। ইতিহাস তাই বলে। ইউরোপের টেমস নদী না থাকলে লন্ডন শহর গড়ে উঠতো না। আর যমুনা নদী না থাকলে দিল্লী শহর গড়ে উঠত না। হুগলী নদীর দান হচ্ছে কলকাতা শহর। মিশরকে বলা নীল নাদের দান। সর্বপরি বুড়ি গঙ্গা না থাকলে ঢাকা শহর গড়ে উঠত না কোন দিনও। আধুনিক যুতে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নদী বন্দরের গুরুত্ব এতটুকু কমেনি। যে বাণিজ্য কর থেকে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় যুদ্ধ পরিচালনা করতে নৌ বন্দরের গুরুত্ব সর্বাধিক। আদিকাল থেকে অদ্যাবধি। যে যে দেশের নদী নালা যত বেশি সেসব দেশে অথনীতি মজবুদ ও টেকশই। যে দেশে নদী নেই সে দেশের মানুষ হতভাগা। আর দারিদ্রতা ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে পর নির্ভরশীল হয়ে তাদের বেঁচে থাকতে হয়। নেপাল-ভুটানে কোন নদী বন্দর নেই। তাই সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতি এই দুটি দেশে। নদীকে বাদ দিয়ে সভ্যতার কথা ভাবাই যায় না। দেশের শষ্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার জন্য নদীর অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই নদীকে কেন্দ্র করে নগড় শহর গড়ে উঠে। কিন্তু এই নদী যখন কোন রাষ্ট্রের অবহেলায় পরিনত হয়ে বন্ধ হয়ে যায় সেদেশের কপালে দুঃখ অবসম্ভাবী। আবার আজকের লেখা বাংলাদেশের উত্তরের সীমান্ত ঘেষা দিনাজপুর জেলার নদীকে নিয়ে। দিনাজপুরের অনেক নদীর বুকে এখন ধান সহ অন্যান্য ফসল চাষ হয়। এই দৃশ্য আমাদের নিকট কোন ক্রমেই সুখকর নয়।

দিনাজপুর জেলায় কৃষিক্ষেত্রে শুষ্ক মৌসুমে খরা একটি প্রধান অন্তরায়। খরার কারণে এই অঞ্চলে ফসল বাঁচাতে কৃষকদের প্রতি বছর হিমশিম খেতে হয়, বাড়তি খরচও হয় অনেক বেশী। দিনাজপুরের মাটি যেন সোনা উদগীরন করে। কৃষি সমৃদ্ধ ও খাদ্য শস্য উদ্বৃত্ত এই জেলায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ধানসহ খাদ্য শস্য আবাদ হয়। দিনাজপুরের শতকরা ৮০% মানুষ পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। এখানকার মানুষের অর্থনীতি কৃষি ক্ষেত্রকে ঘিরে। সোনালী ফসল ফলাতে কৃষকরা দিনরাত পরিশ্রম করে। দিনাজপুরে খরা ছাড়া আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই। এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম হওয়ায় প্রচন্ডভাবে খরা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। নদ-নদীর সংখ্যাও এখানে কম। দিনাজপুরে মোট আবাদী জমির পরিমাণ ৬ লক্ষ ৯ হাজার ৫৫৩ হেক্টরের মত। ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে, শুরু হয় অনাবৃষ্টিজনিত খরার হাহাকার। ফসল বাঁচাতে কৃষকদের পানি যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়। এভাবে সেচের পানি জোগাড় করতে কৃষকরা দিনের পর দিন মরিয়া হয়ে উঠে। এসময় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দিনে দিনে নিচে নামতে থাকে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তখন ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রীর মধ্যে উঠানামা করে। বৃষ্টিপাত হয়না বললেই চলে।

দিনাজপুরে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের গড় পরিমাণ মাত্র ১৬৫ থেকে ১৭০ মিলিমিটার। এসময় সেচের পানি ব্যবহার করতে কৃষকরা মাটির নিচে ১৫ থেকে ২০ ফুট গর্ত করে সেখানে পাম্প মেশিন বসিয়ে পানি তোলার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়। দিনাজপুর সদর থানার দক্ষিণ অংশ সহ জেলার ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও বিরল উপজেলায় বেশ কিছু অংশ জুড়ে প্রতি বছর খরার তান্ডব শুরু হয়। বৃষ্টির জন্য সব শক্তি হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির জন্য আল¬াহর দরবারে শুরু হয় মোনাজাত। মাঠে মাঠে হাটে ঘাটে এই বৃষ্টির জন্য মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে দিনাজপুর দিয়ে প্রবাহিত পুর্ণভবা, আত্রাই, টাঙ্গন, গর্ভেশ্বরী, গাবুরা, কাঁকড়া নদীতে বর্ষায় বন্যায় নামিয়ে তারপর শুকাতে থাকে। জানুয়ারী মাসের পর এসব নদী পানি শূণ্য হয়ে যায়। নদী জুড়ে গঁজাতে থাকে ঘাস। এপ্রিল মে মাসে নদীর প্রবাহ সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যায়। তখন নদীতে কোন পানি থাকে না। কোথাও সামান্য হাঁটু পানি থাকে। নদীর বুকে তখন চলে বালি সংগ্রহের মহোৎসব। দিনাজপুর শহরের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পূর্ণভবা নদী তখন ধূধূ বালুচরে পরিণত হয়। অথচ দেড় থেকে দু দশক পূর্বে এই নদীর পানি দিয়ে সেচ কার্য করে শত শত হেক্টর জমিতে সোনার ফসল ফলানো হত। এ নদীগুলির উৎস মুখ ভারতে হওয়ায় গ্রীষ্ম মৌসুমে ভারত সেখানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখে।

ফলে বাংলাদেশের অংশে নদী বাঁচিয়ে রাখার মত অবশিষ্ট পানিটুকুও থাকে না। প্রতিবছর এ শুষ্ক নদীর প্রতিক্রিয়া শুধু দিনাজপুর জেলাবাসীরই নয় জাতীয় অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলে দেয়। দিনাজপুর জেলায় এক বছরে যে ধান উৎপন্ন হয় তা দিয়ে দিনাজপুরবাসীর প্রায় সাড়ে ৪ বছরের খাদ্য জোগান দেয়। দিনাজপুর জেলার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোন কার্যকরী ভূমিকা এ পর্যন্ত রাখা হয়নি। অতি পরিতাপের বিষয় দীর্ঘদিন এই অবস্থা বিরাজ করলেও কোন সরকার দিনাজপুর নিয়ে ভাবে না। দিনাজপুরে এখনও কোন পূর্ণাঙ্গ ধান গবেষণা কেন্দ্র গড়ে উঠে নাই। দিনাজপুর জেলা দেশের খাদ্য সরবরাহের দিক থেকে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। খাদ্য শস্য সমৃদ্ধ ও উদ্বৃত্ত এ জেলায় নদী খননের কোন ব্যবস্থা আজোও গ্রহণ করেনি কোন সরকার। অন্যদিকে প্রচন্ড খরা কবলিত এলাকায় ডিপ টিউবওয়েলের কোন ব্যবস্থা নেই। তারপরও কৃষকরা নিজের বুদ্ধিমত্তা ও পরিশ্রম দিয়ে দেশের খাদ্য চাহিদায় সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে যুগ যুগ ধরে। নদ-নদী সংস্কারের অভাবে দনাজপুরের বুক থেকে সম্পুর্ন বা আংশিকভাবে হারিয়ে গেছে এক ডজন নদ-নদী। অথচ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী সংস্কারের নামে প্রতিবছই খরচ করছে হাজার হাজার মেট্রিক টন গম বা চাল। দিনাজপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ নদীর সংখ্যা ছিল ১৯টি। এগুলো হলো, করতোয়া, তুলশীডাংগা, ছোটযমুনা, পূণর্ভবা, তিলাই, কাঁকড়া, আত্রাই, বেলান, ইছামতি, ভেলামতি, চিরি, তুলাই, টাঙ্গন, সোয়া, ঢেপা, ছোটঢেপা, পাথরাজ, এবং গর্ভেশ্বরী। পাল তুলে এসব নদ নদী বেয়ে এক সময় চলাচল করত যাত্রীবাহী নৌকাসহ মহাজনী নৌকা। এই অঞ্চলের অর্থনীতি বহুলাংশে নির্ভরশীল ছিল এসব নদ-নদীর উপর।

আবহাওয়াকে মৃদুভাবাপন্ন রাখতে সহায়তা করত এসব নদ-নদীগুলো। সাথে যোগান দিত প্রচুর পরিমাণ মাছ। এসব নদ-নদীর মধ্যে ১২টি নদ-নদী সম্পূর্ণ বা আংশিক হারিয়ে গেছে দিনাজপুরের মানচিত্র থেকে। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাওয়া নদীগুলো হচ্ছে মাহিলা, তিলাই, বেলান, বেলামতি, চিরি, সোয়া এবং গর্ভেশ্বরী। আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো হচ্ছে কাঁকড়া, পাথরাজ, তুলশীগঙ্গা, ইছামতি ও টাঙ্গন। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদীর বেশীর ভাগেরই উৎস ভারত। কোন কোনটি উপ-নদী বা শাখা নদী। বন্ধ হয়ে যাওয়া নদীগুলোর মধ্যে সবগুলোই কোন না কোন নদীর শাখা-কোনটি আবার প্রশাখা। মাহিলা নদী প্রবাহিত হতো ঘোড়াঘাটের উপর দিয়ে। তিলাই প্রবাহিত হতো পার্বতীপুর উপজেলা দিয়ে। বেলান প্রবাহিত হতো চিরিরবন্দর ও খানসামা উপজেলা দিয়ে চিরি ও ভেলামতি প্রবাহিত হতো চিরিরবন্দর উপজেলা দিয়ে। সোয়া নদী বোচাগঞ্জের স্থানীয় নদী। এখন এসব নদ-নদীর বুক ভরাট হয়ে শস্যক্ষেতের সমান্তরালে এসে দাঁড়িয়েছে। এসব নদ-নদীর বুকে এখন রীতিমত আবাদ হচ্ছে ধানসহ অন্যান্য ফসল। কোথাও কোথাও স্থানীয় লোকজন মাছ চাষ করতে এগুলোকে জলাশয়ে রূপান্তরিত করেছে।

গর্ভেশ্বরী নদীর ভাটিমুখ এবং উৎস মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। সদর উপজেলার দেড় কিলোমিটার এলাকায় নদী থাকার প্রমান হিসাবে পানির সামান্য অস্তিত্ব আছে। স্থানীয় একটি এনজিও সেটি লীজ নিয়ে মৎস্য চাষ প্রকল্প হিসাবে ব্যবহার করছে। আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া নদ-নদীর মধ্যে পাথরাজ বীরগঞ্জ উপজেলা, তুলশীগঙ্গা হাকিমপুর ও নবাবগঞ্জ উপজেলা, কাঁকড়া চিরিরবন্দর উপজেলা, ইছামতি, চিরিরবন্দর উপজেলা এবং টাঙ্গন বীরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত হতো। এসব নদ-নদীর ৭০-৭৫ ভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ঘোড়াঘাট এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে করতোয়া নদী। হাকিমপুর, বিরামপুর, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর ও সদর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে পূণর্ভবা, চিরিবন্দর, খানসামা ও বীরগঞ্জের উপর দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে আত্রাই, বিরল ও বোচাগঞ্জ হতে বয়ে চলেছে তুলাই এবং কাহারোল ও বীরগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে ঢেপা নদী। এর মধ্যে তুলাই, ঢেপা, ছোট যমুনা এবং পূনর্ভবার স্থানে স্থানে জেগে উঠছে বিস্তীর্ণ চর। পানি প্রবাহের ধারা ক্ষীন হতে ক্ষীণতর হয়ে আসছে। জেলার নদ-নদীর এই বেহাল অবস্থা এ জেলার আবহাওয়ার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বছর আগেও জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ছিল ১২র্৫ । খরাপীড়ন হে এ য় উঠেছে নিত্য বছরের সঙ্গী। নদ-নদী থেকে আহরিত সুস্বাদু পানির মাছ দুঃপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে। পেশা বদল করতে হয়েছে জেলে এবং মাঝি-মাল্লাদের।

নদ-নদীর বেহাল দশার জন্য দায়ী করা হচ্ছে মৃত্তিকার গঠনশৈলী, নদ-নদীর সর্পিল গতিপথ এবং সংস্কার না হওয়াকে। জেলার বেশীরভাগ নদ-নদীর গতিপথ অস্বাভাবিক সর্পিল বিধায় উজান হতে বয়ে আসা বর্জ এবং পলি স্থানে স্থানে আটকে যায়। এভাবে পলি ও ময়লা ইত্যাদি জমে রুদ্ধ হয় নদীর গতিপথ। তা ছাড়া এই অঞ্চলের মৃত্তিকা মূলতঃ দো-আঁশ এবং বেলে দো-আঁশ জাতীয়। ফলে নদীর পাড় সামান্য বর্ষনেই ভেঙ্গে পড়ে গতিকে করে আরো রুদ্ধ। এদিকে প্রতি বছর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড হাজার হাজার মেঃ টন গম বা চাল বরাদ্দ দেয় নদী সংস্কারের নামে। কিন্তু সংস্কার না হয়ে বরাদ্দকৃত গম কৌশলে আত্মসাৎ করা হয় মর্মে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। এজন্য সংস্কার থাকে শুন্যের কোটায়। আর নদ-নদীর নাব্যতা কমতে থাকে প্রতি বছরেই। এভাবে বন্ধ হয়ে যায় নদ-নদীগুলো। খরাকৃত এলাকা দিনাজপুরের মানুষ শতকরা ৮০থেকে ৮৫ ভাগ মানুষ পরক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে কৃষি নির্ভরশীল। তাই এখানকার অর্থনীতি কৃষি ভিত্তিক। এখানে বৃষ্টিপাত কম হয় তাই সেচের জলের উপর নির্ভর করতে হয় চাষীদের। এ সেচের জলের উৎস নদী নালা আর খাল-বিল।

কৃষি ভিত্তিক জেলা হলেও নদী ভিত্তিক জেলা আমরা দিনাজপুরকে বলতে পারি না। নদী আমাদের সেচের জন্য জল দেয় না। নদীগুলির বুক এখন জল শূন্য মরুভূমিতে পরিনত। দিনাজপুর জেলা বরাবরের মতই এখনও অবহেলিত। সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে দিনাজপুরের নদী খনন পরিকল্পনা কোনদিনই ছিল না এখনও নেই। অথচ দিনাজপুরের কৃষি পণ্যের উপর বাংলাদেশ অনেকাংশেই নির্ভরশীল। তাই সরকারের এই উদাশীনতা এ অঞ্চলের কৃষকদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। নদী বুকে আবাদ হোক এটা আমাদের কাম্য নয়। আমাদের কৃষকরা আশা করে সারা বছর নদী জলে ভরে টাইটম্বুর হয়ে থাক। নদীর দুই কুল কানায় কানায় ভরে থাক। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, নদী খনন করে সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে তা এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং আবহাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংযোজনা ঘটাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য