বিরলে মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান শাহ স্মৃতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানদিনাজপুর সংবাদাতাঃ জাতীয় পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত দিনাজপুরের বিশিষ্ট নাট্যজন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান শাহ শুধুমাত্র নাট্যকার কিংবা নাট্যাভিনেতাই ছিলেন না তিনি ছিলেন একাধিক প্রতিভার অধিকারী। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার জন্য তার যে অবদান তা কখনো ভুলবার নয়।

একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত দিনাজপুরের বিশিষ্ট এই নাট্যজন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান শাহ চেয়েছিলেন তাঁর গ্রামের নতুন প্রজন্মসহ প্রত্যেকে যেন শিক্ষার আলোকিত হয়। আর এজন্য সকল দিধাদন্দ্ব ভুলে যেভাবে মরহুম শাহজাহান শাহ সহযোগিতা করে গেছেন তার অবর্তমানে তার পরিবার সেই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আর শাহজাহান শাহ’র স্মৃতি অম্লান রাখতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অন্ষ্ঠুান-এরই এক প্রয়াস।

মরহুম শাহজাহান শাহ স্মৃতি স্মরণে ১০ ও ১১ জানুয়ারী ২০১৯ (বৃহস্পতিবার-শুক্রবার) দুইদিন ব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার রাতে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের পূর্বে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রতিবছরের ন্যয় এবারও দিনাজপুরের বিরল উপজেলার জয়হার গ্রামের মোখলেশপুরের ‘নবীন সংঘ’ এর যুবকদের আয়োজনে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মরহুম শাহজাহান শাহ এর কন্যা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সিফাত ই জাহান।

বিরল উপজেলার বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক মো. সাদেক আলী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এএসপি আবু সাঈদ, বিরল উপজেলার বিশিষ্ট শিল্পপতি সাজ্জাদ হোসেন সাজু ও জয়হার গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আকরাম হোসেন।

শাহাজাহান শাহ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না মন্তব্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিফাত ই জাহান বলেন, তিনি ছিলেন একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মকে তাঁর রেখে যাওয়া সংস্কৃতি বেশি বেশি চর্চা করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, তৃণমুল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রকৃত পক্ষেই প্রশংসনীয়। গ্রাম বাংলায় এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে এলাকার মানুষ একদিকে মাদক মুক্তসহ অন্যান্য অপরাধ মুক্ত হবে। অন্যদিকে বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মানসিকতার বিকাশ ঘটবে।

ওই গ্রামের মিনারা জানান, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান শাহ স্মৃতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য এবং দৃষ্টিনন্দিত প্রতিযোগিতা হচ্ছে জামাইদের মধ্যে বেলুন ফাটানো ও বিবাহিত ছেলেদের বস্তা দৌড় ও গ্রামের বয়স্ক ও যুবকদের রশি টানা।

আলোচনা সভা শেষে খেলায় অংগ্রহনকারী বিজয়ী খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথিসহ উপস্থিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এসময় জয়হার গ্রামের তেতুলতলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকার চেক অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. সাদেক আলীর নিকট প্রদান করেন প্রধান অতিথি শাহজাহান শাহ’র কন্যা সিফাত ই জাহান।

এরপর দিনাজপুর নবরূপীর আয়োজনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি এলাকাবাসীর সকলেই উপভোগ করেন।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, শাহজাহান শাহ ছিলেন সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট সংগঠক ও শিল্পী। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাপতি, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নবরূপীর অর্ধশতকের টানা সাধারণ সম্পাদক, দিনাজপুর নাট্য সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন। তাঁর লেখা ও অভিনীত নাটক সারা দেশে মঞ্চস্থ হয়েছে। নাট্যজন হিসেবে জাতীয় পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন শাহজাহান শাহ।

তার লেখা উল্লেখযোগ্য নাটক “জান দেব জবান দেবনা”,“ইত্যাদি ধরণের প্রভৃতি” ,“রক্ত গোলাপের যাদুকর”,“বেহান কান্দে যেই আন্ধারে”, “একুশের পালা” ও “হুল হুল”। ১৯৭৬ সালে জাতীয় নাট্যউৎস বেতাঁর রচিত “ইত্যাদি ধরণের প্রভৃতি” নাটকটি জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য