মধ্যপাড়া খনিতে ওভার লোড সংক্রান্ত জটিলতায় অবিক্রিত পাথরের মজুদ দিনদিন বাড়ছে ষ্টাফ রিপোর্টারঃ দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে পাথর বিক্রিতে ভাটা পড়েছে, খনির পাথর ইয়াডে অবিক্রিত পাথরের মজুদ সাড়ে চার লাখ মেট্রিকটন, দিনদিন বাড়ছে মজুদের পরিমান।

App DinajpurNews Gif

খনি সুত্রে জানা গেছে গত ২০১৮ সারের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খনি থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়েছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৬৬ টন। সেখানে পাথর বিক্রি হয়েচে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ২২টন। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪৪ টন পাথর মজুদ রয়েছে। আবার ২০১৯ সালেও প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন হচ্ছে।

খনি কতৃপক্ষ বলছে আমদানীকৃত পাথর ওভার লোড নিয়ে পরিবহন করতে পারছে পাথর ব্যবসায়ীরা, এতে তাদের পরিবহন খরছ কমে যাচ্ছে, এই কারনে তারা খনির পাথর না নিয়ে আমদানী কৃত পাথর কিনতে আগ্রহী হচ্ছে , কিন্তু খনির পাথর অতিরিক্ত বহন করার অনুমতি পাচ্ছেনা এই কারনে খনির পাথর বিক্রি কিছুটা কমেছে।

কয়েকজন পাথর ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার সত্বে বলেন, আমদানী কৃত পাথর একটি টু-ক্সেল ট্রাকে ৩২ টন ও একটি ত্রি-এক্সেল ট্রাকে ৫৫ টন পর্যন্ত পরিবহন করা যায়, এতে পাথর পরিবহনের খরছ কমে যায়। অথচ খনি কতৃপক্ষ একটি টু-এক্সেল ট্রাকে ২২ টন ও একটি ত্রি-এক্সেল ট্রাকে ৩২ টনের বেশি লোড ও পরিবহনের অনুমতি দেয়না এতে পাথরের পরিবহন খরছ বেশি হয়ে যায়।

ট্রাকের চালকদের নিকট থাকা পাথর আমদানী কারকদের দেয়া পাথরের চালানে দেখা যায়, সেখানে একটি টু-এক্সেল ট্রাকে ৩২টন ও একটি ত্রি-এক্সেল ট্রাকে ৫৫ টন পাথর লোড দিয়েছে। ট্রাক চালকরা জানায় এই লোড নিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেছে কোন অসুবিধা হয়নি।

মধ্যপাড়া গ্রানাই মাইনিং কোম্পানী লিঃ এর মহা-ব্যবস্থাপক (অপরেশন) আবু তালেব ফরাজি বলেন, বাংলাদেমে সড়ক ও সেতু বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী একটি টু-এক্সেল ট্রাকে ২২ টন ও একটি ত্রি-এক্সল ট্রাকে ৩২ টন পর্যন্ত। এই নিয়ম মেনে মধ্যপাড়া খনি কতৃপক্ষ ট্রাকে পাথর পরিবহনের অনুমতি ও লোড দিয়ে থাকে।

কিন্তু পাথর আমদানী কারকেরা, সরকারের এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে, একটি টু-এক্সেল ট্রাাকে ৩২ টন ও একটি ত্রি-এক্সেল ট্রাকে ৫৫ টন পর্যন্ত বহন করছে, এতে পাথর ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরছ কমে যাচ্ছে এই জন্য তারা খনির পাথর না নিয়ে আমদানীকৃত পাথর কিনতে আগ্রহী হচ্ছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইড কোম্পানী লিঃ এর এই কর্মকর্তা আরো বলেন সড়ক ও সেতু কতৃপক্ষ যদি ওভার লোড পরিবহন করা রোধ করতে পারে তাহলে খনিতে পাথর বিক্রি বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো বলেন বাজারের তুলুনায় মধ্যপাড়া খনির পাথর গুনে-মানে ভাল ও দামও কম।

সমাজের অর্থনীতিবীদরা বলছেন, দেশে পাথরের চাহিদা অনেক, সেখানে দেশি পাথরের তুলুনায় আমদানীকৃত পাথর এর উপর চাপ বাড়ায়, পাথর আমদানী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতেকরে বৈদাশিক মুদ্রার উপর চাপ বাড়ছে।

অপরদিকে অতিরিক্ত পাথর পরিবহন করায় রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে এই জন্য তারা দেশি পাথরের বাজার ধরে রাখার জন্য অতিরিক্ত পাথর পরিবহন বন্ধ ও আমদানীকৃত পাথর ব্যবহারে নিরুৎসাহী করার তাগিদ দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য