রাণীশংকৈলে অতিথি পাখির অভয়াশ্রমরাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) থেকে মোঃ আনোয়ার আকাশঃ শীত আসলেই যেন রাণীশংকৈলে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠে। এসময় দেখা মেলে অতিথি পাখির। সাইবার অঞ্জল সহ বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে পানকৌড়ি, বালিহাঁস সহ বিভিন্ন জাতের অতিথি পাখিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চলে আসে।

শীতের তীব্রতার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এরা আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশে যখন গরম নেমে আসে তখন সাইবার অঞ্চলে শীতের তীব্রতা কমে। তখন পাখিগুলো হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আবার ফিরে যায় সেখানে। কারন সে সব অঞ্চলে শীতের আমেজ মোটামুটিভাবে সারা বছর থাকে।

জেলার রাণীশংকৈল-হরিপুর প্রধান সড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা উপজেলার কেউটান গ্রামে বহু বছরের পুরনো শিমুল গাছে আশ্রয় নিয়েছে পানকৌড়ি পাখি। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পাখিগুলো প্রতিবারের ন্যায় এবারও এখানে আশ্রয় নিয়েছে।

সকাল হওয়ার সাথে সাথে তারা আহারের খোজে যে যার মতো বেরিয়ে পড়ে। আহার শেষে আবার ফিরে বিশালাকার এই শিমুল গাছে রাত কাটায়। গ্রামের ভিতর সবসময় লোক সমাগম হলেও তাদের প্রিয় এবং অতি পরিচিত জায়গা এটি। এখানকার মানুষের সাথে যেন তাদের আত্মার মিল হয়ে গেছে। মনে আত্মীয় স্বজনের মত চেনা জানা তাদের।

কিন্তু যখন নতুন কেউ গাছের কাছাকাছি যায় তখন পাখিগুলো ডাক দিয়ে যেন তাদের ভাষায় অন্য পাখিদের সতর্ক করে। কেউটান গ্রামের রইসউদ্দিন, ভবেশ চন্দ্র, নাসিরউদ্দিন সহ অনেকে বলেন, প্রতি বছর শীতের শুরুতেই পাখিগুলো আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আমাদের গ্রামে এসে আশ্রয় নেয়। কোন মানুষকে এসব পাখি মারতে দিই না। পাখিগুলো আমাদের খুব প্রিয় হয়ে গেছে। পাখি মারাকে কেন্দ্র করে পাখি শিকারীদের অনেকের সাথে ঝগড়া বিবাদও হয়ে গেছে।

অপরদিকে উপজেলা ঐতিহ্যবাহি পর্যটন কেন্দ্র রামরাই দিঘি বা রাণীসাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে বালিহাঁস এসে ভিড় জমিয়েছে। এসব পাখি যখন পুকুরে অবস্থান করে তখন সবুজ শ্যামলে ঘেরা পুকুরটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। তাই এসময় দর্শনার্থিদের ভিড় জমে পর্যটন এলাকা দেখার জন্য। একদিকে পুকুরের চারপাশে লিচু গাছের সারি পুকুরটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তারই মাঝে পাখির কিচির মিচির ডাক আরো মেহিত করে তোলে।

পানির উপর ভেষে থাকা হাজার হাজার পাখি নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্য মানুষের চলার গতি উপলব্ধি করে চলে নিরাপদ অবস্থানে। অনেক সময় কিনারে আসলেও মানুষ তাদের কাছাকাছি আসার আগেই পুকুরের মধ্যস্থলে বা নিরাপদ জায়গায় চলে যায়। তবে মজার বিষয় পাখিগুলো এলাকার মানুষের খুব প্রিয় হয়ে যাওয়ায় কোন পাখি শিকারী তাদের মারতে পারেনা। এলাকার লোকজন পাখিগুলোকে শিকারীদের হাত থেকে আগলে রাখে। এখন যেন সবার জানা হয়ে গেছে পাখি মারতে গেলে এলাকার মানুষের হাতে গণপিটুনি খাওয়ার ভয় আছে।

হোসেনগাও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম বলেন, শীত আসলেই পাখিগুলো প্রতি বছর আমাদের পর্যটন কেন্দ্রে ফিরে আসে। এখন পাখি শিকারীদের জানা হয়ে গেছে পাখিগুলোকে এলাকার মানুষ আগলে রাখে। এদের মারা যাবেনা। এ ব্যাপারে এলাকার লোকজন খুব খেয়াল রাখে।

এব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, পাখিগুলো যাতে অবাধে বিরচণ করতে পারে এজন্য কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাথে মিটিং করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রচার প্রচারণার কমতি নেয়। সকলের সহযোগিতায় পাখিগুলো নিরাপদে আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আফরিদা বলেন, অতিথি পাখিরা এলাকার মানুষের ভালবাসা পেয়ে আপনজনের মতো হয়ে গেছে। সকলের সহযোগিতায় পাখিগুলো নিরাপদে আছে। যাতে দুস্কৃতিকারীরা পাখিগুলো শিকার করতে না পারে সেজন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। জীবের প্রতি মানুষের যে প্রেম মায়া মমতা তা সত্যি প্রসংশনীয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য