সৈয়দপুরে অর্থের লোভে মেয়ে ও জামাইকে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগমো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে অর্থের লোভে মেয়ে ও জামাইকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর বুধবার সকালে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের নতুন ভবনের ৩য় তলায় বেড না মেয়ে মেঝেতে শুয়ে থাকাবস্থায় মা, চাচা, বোনদের হামলায় আহত মেয়ে শামীমা আক্তার শম্পা এমন অভিযোগ করেন। এসময় হাসপাতালের ৪র্থ তলায় ভর্তি জামাতা সিরাজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, শম্পা ও সিরাজুল প্রেম করে বিগত ২০১১ সালে বিয়ে করে। সিরাজুলের পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নিলেও শম্পার পরিবার মেনে নেয়নি। কিন্তু বিগত ২০১৫ সালে শম্পার পিতা তাজুল ইসলাম ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারার যাওয়ার কিছুদিন আগে তাদের ডেকে নিয়ে পরিবারের সকলকে তাদের মেনে নেয়ার জন্য বলেন।

সে অনুযায়ী শম্পা ও সিরাজুল মাঝে মাঝে তার মায়ের সাথে দেখা করতে বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়া কতো। কিন্তু এর মধ্যেই শম্পার মা পারভিন ইসলাম ব্রেণ স্ট্রোক করে গুরুত্বরভাবে অসুস্থ হলে স্মৃতিশক্তি লোপ পায় এবং কিছুটা অস্বাভাবিকভাবে কোন রকমে বে^ঁচে আছেন। এরই মধ্যে গত একমাস যাবত শম্বার বড় বোন সৈয়দপুর আর্মি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় (বাউস্ট) এর হল সুপার তাজনীন আক্তার সুরভী ও চাচা মো: সাইফুল ইসলাম শ্যামল ব্যাপক আদর আপ্যায়ন শুরু করে শম্পা ও সিরাজুলের সাথে।

এক পর্যায়ে চাচা ও বড় বোন মিলে তাদেরকে বাবার একটি ৭ শতক জমি বিক্রির জন্য শম্পাকে তার প্রাপ্য টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার জন্য স্বাক্ষর দিতে রাজি করে। গত ২৩ ডিসেম্বর রবিবার সৈয়দপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ওই জমি বিক্রির রেজিষ্ট্রি সম্পন্ন হয়। ক্রেতা রিংকু জমির মূল্য বাবদ ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তাদের অভিভাবক চাচা সাইফুল ইসলাম শ্যামলকে বুঝিয়ে দেন।

এরপর কয়েকদিন গত হলেও শম্পা তার প্রাপ্য টাকা চাইলে তা দিতে গড়িমসি করা শুরু করে চাচা ও বড় বোন। এমতাবস্থায় শম্পা গত ২৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার টাকা অংশের ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাইতে বাবার বাসায় গেলে চাচা সাইফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, তহিদুল ইসলাম ও ছোট বোন তানজিনা আক্তার সোমা ও সাদিয়া আফরিন দোলা টাকা দিতে অস্বীকার করে।

তারা বলেন, তুমি যেহেতু পরিবারের তথা বাবার অসম্মতিতে বিয়ে করেছো তাই তোমাকে কোন অংশ্য দেয়া হবেনা। কারণ তুমি এ সম্পত্তিতে অংশিদার হতে পারোনা। এতে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে চাচা সাইফুল ইসলাম শ্যামলের হুকুমে উপস্থিত সকলে লোহার রড, কাঠের লাঠি, বাঁশ দিয়ে এলোপাথারী মার ডাং করে শম্পা ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামকে রক্তাক্ত জখম করে বাড়ির বাহিরে রাস্তার উপর ফেলে রাখে। এরপর এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে তাদের ভর্তি করে।

উল্লেখ্য, মারা মারির সময় শম্পার অসুস্থ মা পারভীন ইসলাম মেয়ে কে তার প্রাপ্য দিয়ে দেয়ার জন্য বার বার বলা সত্বেও তারা উল্টো মাকে একটি ঘরে আটকে রাখে। এ ব্যাপারে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে শম্পার বড় বোন তাজনীন সুরভীর সাথে মুঠোফোন ০১৭৯৩২০০০১৫ নম্বরে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদের পরিবারে এধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। ছোট বোন শম্পাকে তার প্রাপ্য দিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি তার চাচা সাইফুল ইসলাম শ্যামলের মোবাইল নম্বর চাইলে দিতে অসম্মতি জানান। এ কারণে তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য