ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি উপদ্রুত এলাকায় আবারও সতর্কতা জারিইন্দোনেশিয়ায় সুনামি উপদ্রুত আনাক কারাকাতাউ উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ‘চরম আবহাওয়া’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে উপকূলে সুউচ্চ ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলেও লোকজনকেও সতর্ক করা হয়েছে। বুধবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করে।

আনাক কারাকাতাউ আগ্নেয়গিরির চারপাশে সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে লোকজনকে উপকূলীয় এলাকায় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই সুনামির তাণ্ডবে দেশটিতে ৪০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, চারপাশের প্রতিকূল আবহাওয়া আগ্নেয়গিরির পরিস্থিতিতে আরও দুর্বল বা ভঙ্গুর করে তুলবে।

বিএমকেজি জানিয়েছে, সমুদ্র তলদেশে ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট সুনামি শনাক্ত করতে সক্ষম নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকারি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন নতুন অবকাঠামোর ঢেউ পরিমাপক যন্ত্র আগামী বছর বসানো শুরু হবে।

শনিবার (২২ ডিসেম্বর) আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামির আঘাতে দেশটির জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের প্রায় সাড়ে চারশো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সুনামিতে আহত হয়েছে আরও অন্তত ১ হাজার ৪৫৯ জন। এখনও প্রায় দেড়শো মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। ঘরহারা ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী শিবিরে। অগ্নুৎপাতের কারণে সমুদ্র তলদেশে ভূমিধসের কারণে ওই সুনামি সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার সরকারি গবেষণা ইনস্টিটিউট এজেন্সি ফর দি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপলিকেশন অব টেকনোলজির মুখপাত্র আইয়ান তুরিয়ানা জানিয়েছেন নতুন ব্যবস্থাটি সমুদ্রের ঢেউয়ের আকার শনাক্তের মাধ্যমে সুনামি সতর্কতা দিতে পারবে।

তহবিল সংকট, ঢেউ শনাক্ত যন্ত্র এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ২০১২ সাল থেকেই ইন্দোনেশিয়ায় কোনও কার্যকর সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২২ ডিসেম্বর আগ্নেয়গিরির কাছে ঢেউ পরিমাপক যন্ত্র থাকলেও সতর্কতার সময় পাওয়া যেত খুবই কম। তা নির্ভর করতো উপকূলের কত কাছাকাছি আনাক কারাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অবস্থান।

ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত অঞ্চলটিতে প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলীয় সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু এলাকায় ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভুমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারির ৩৪ মিনিট পর তা প্রত্যাহার করে নেয় ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা (বিএমকেজি)। ওই সুনামিতে প্রায় হাজার খানেক মানুষের মৃত্যুর পর তোপের মুখে পড়ে সংস্থাটি।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ১৩ দেশের ২ লাখ ২৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি নিহত হয়েছিলেন শুধু ইন্দোনেশিয়াতেই। ১৮৮৩ সালে এবারের আগ্নেয়গিরিটিরই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি সুনামি হয়েছিল, যাতে প্রাণ হারিয়েছিল ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য