মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ ধানের শীষ মার্কা তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকারের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় সৈয়দপুরের সর্বত্র শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

২৪ ডিসেম্বর (সোমবার) দুপুরে আদালতের রায়ের খবর আসা মাত্রই দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের মাঝে চরম স্থবিরতা নেমে আসে। ক্ষনিকের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পরলে সব জায়গায় আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এটি। মূহুর্তেই তুমুল চাঞ্চল্যকর খবর হিসেবে তা মানুষের মাঝে আলোড়নের সৃষ্টি করে।

এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আগামী নির্বাচন নিয়ে দেখা দেয় হতাশা ও অনাগ্রহ। বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে মূষড়ে পড়ে। তাদের অনেকেই এ খবরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে সমবেত নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে বেদনাহত হয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। আবেগাপ্লুত অনেকে এ ব্যাপারে ষড়যন্ত্রের কারণে এমন রায় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

ধানের শীষের প্রার্থী আমজাদ হোসেন সরকার তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন যে আবারও আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম। একইভাবে ফেসবুক জুড়ে নানা মন্তব্যের ঝড় উঠে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাকে নির্বাচন করতে দেয়া হবেনা বলে অনেক আগে থেকেই নানামুখী চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, সরকার যে বিচার বিভাগসহ সর্বত্র তাদের করায়ত্ব করেছে এ রায় তারই প্রমান। কারণ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারী দলের এমপি’রা স্বপদে থেকেই সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করেই নির্বাচন করছেন অথচ মেয়র বা উপজেলা চেয়ারম্যানরা স্বপদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন না। এটা দ্বিমুখীতা ছাড়া আর কিছুই না।

আমজাদ হোসেন সরকারের প্রার্থীতা বাতিলের আবেদন করেছিলেন নীলফামারী-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী আহসান আদেলুর রহমান আদেল। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মেয়রদের পক্ষেই রায় দেয়। কিন্তু সরকারী কৌশুলী বিষয়টি চেম্বার জর্জ আদালতে নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরিত রায় প্রদান করেন। যা একটা নজির বিহীন উদাহরণ হয়ে থাকবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, আমজাদ হোসেন সরকার একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। বিপক্ষ প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেনা বলেই ষড়যন্ত্র করে আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। আবারও প্রমান হলো যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য