নওয়াজ শরিফআল আজিজিয়া দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ফ্ল্যাগশিপ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালত এ দুই মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার সময় ভাতিজা হামজা শাহবাজসহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন নওয়াজ শরিফ। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

লন্ডনে কেনা বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে দেওয়া অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে (অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলা) ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় পাকিস্তানের আদালত। তার মেয়ে মরিয়মকে দেওয়া হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড।

মরিয়মের স্বামী ও নওয়াজের মেয়ের জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ সফদরকেও আদালত এক বছরের সাজা দেয়। গত সেপ্টেম্বরে নিম্ন আদালতের দেওয়া এ রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ। মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ রুপিতে নওয়াজ ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

অ্যাভেনফিল্ড মামলার রায় ঝুলে থাকলেও সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) নওয়াজের বিরুদ্ধে অন্য দুই দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আল আজিজিয়া দুর্নিত মামলায় নওয়াজকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ফ্ল্যাগশিপ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ ও আল আজিজিয়া দুর্নীতি মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে তা বিলম্বিত হয়। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে রবিবারই নওয়াজ লাহোর থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছান। দুপুর ২টার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। তার পৌঁছানোর পর পরই রায় ঘোষণা করে আদালত।

দলের শীর্ষ নেতা নওয়াজের প্রতি সমর্থন জানাতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভীড় জমান পিএমএল-এন কর্মীরা। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালতের দিকে যাওয়ার রাস্তায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও রেঞ্জারের সদস্যদের।অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। রেজিস্ট্রারের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের কেউই সোমবার শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। পিএমএল-এন নেতা আহসান ইকবাল,মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হাশমিকে সোমবার শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসিসহ অন্য নেতারা প্রবেশের অনুমতি পাননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য