দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের জেএসসি পরীক্ষার ফল দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গড় পাশের হার ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। গত বারের চেয়ে এবারে পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা উভয়ই কমেছে। গতবার ছিল পাশের হার ছিল ৮৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছিল ২০,০৬২ জন।

দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ লাখ ২ হাজার ৭৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯৫ হাজার ৯৩৩ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ৬ হাজার ৮২৩ জন। গড় পাশের হার ৮১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ফলাফলে এবারেও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রদের পাশের হার ৮০.২৬ শতাংশ ও ছাত্রীদের পাশের হার ৮২.৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৩০৩ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ৩০৩৪ জন ও ছাত্রী ৩২৫৯ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৬২ জন।

ফলাফলে গতবারের চেয়ে এবারে শতভাগ পাশকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমেছে। এবারে শতভাগ পাশকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩০২টি যা গতবারে ছিল ৫৮০টি। অপরদিকে কেউই পাশ করেনি এমন (শূন্য ফলাফলপ্রাপ্ত) বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১টি যা গতবারে মাত্র ১৩টি। এবারে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৪টি ও অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩২৫২টি।

ফলাফল প্রকাশ করে দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তোফাজ্জুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল তেমন সন্তোষজনক নয়। কারণ ইংরেজীতে প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার কারণে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এছাড়া এবারে পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দু’টিই সামান্য কমেছে। তিনি বলেন, এবারে কেইই পাশ করেনি অর্থাৎ শূন্য ফলাফল প্রাপ্ত বিদ্যালয়ের ১১টি। যা গতবার ছিল ১৩টি। অপরদিকে শতভাগ পাশকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যাও কমেছে। এবারে শতভাগ পাশকৃত বিদ্যালয় ৩০২টি যা গতবারে ছিল ৫৮০টি। কেউ পাশ করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৩ জন উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ছিল ৮৪.৩৫ ভাগ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬৪৫ জন। ২০১২ সালে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫০৫ জন। পাশের হার ছিল ৮৪.৮৮ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ৫৩৪ জন। ২০১৩ সালের ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৩ জন।

গড় পাশের হার ৮৮.৯১ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৮৩৬ জন। ২০১৪ সালে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮১০ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। পাশের হার ছিল ৯০.১০ ভাগ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪ হাজার ৪২০ জন। ২০১৫ সালে ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮২ জন উত্তীর্ণ হয়। গড় পাশের হার ছিল ৯১ দশমিক ৫২ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৯ হাজার ১৪৩ জন। ২০১৬ সালে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ লাখ ১ হাজার ৫২৫ জন উত্তীর্ণ হয়। গড় পাশের হার ছিল ৯২ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৭ হাজার ৮৯ জন। ২০১৭ সালে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ লাখ ১ হাজার ৮০৯ জন।

ফলাফল প্রকাশের সময় দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের সচিব মো. আমিনুল হক সরকার, কলেজ পরিদর্শক মো. ফারাজ উদ্দিন তালুকদার, উপ-সচিব ড. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. হারুন-অর-রশিদ, শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আজিজুল হক শাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানীসহ বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে শিক্ষাবোর্ডর অধীনে নবমবারের মত জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য