Arrest2নীলফামারী-২ (সদর) আসনে পৃথক নির্বাচনি সহিংসতায় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন জামায়াতের সাথী সদস্য দেলোয়ার হোসেন (৩০) ও আবুজার রহমানকে (৩৫)গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নীলফামারী সদর থানার ওসি মো. মোমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলো বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন শাখার জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নাহিম ইসলাম (২৬) ও কুন্দপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মাহবুবার রহমান (৪২)। তারা নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলায় আলমগীর হোসেন নামে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের এক সদস্যও আহত হয়েছেন। নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির ওই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহতরা।

হামলার ঘটনায় আহত নাহিম ইসলাম (২৬) বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্চপুকুর বাজারে জামায়াতের প্রার্থীর তার প্রচারণা চালানোর সময় সাংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কথা বলে।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি মাইকটি বন্ধ করে দেয়। আবার কিছুক্ষণ পর বাজারের পাশে শাহপাড়া এলাকায় পুনরায় আপত্তিকর কথা বলতে থাকলে আমি তার কাছে গিয়ে আপত্তি জানাই। তখন জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা এসে আমাকে ঘিরে ফেলে এবং আমার গলায় ধারালো ছুরি ধরে। পরে আমাদের লোকজন ছুটে আসলে তারা আমার ঘারে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য আলমগীর হোসেনও আহত হন। আলমগীরকে প্রাথমিক চিকিৎসায় ছেড়ে দেয়া হলেও আমার ঘারে পাঁচটি সেলাই দিতে হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষণের কারণে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রাতেই সদর থানায় মামলা করেছেন।

অপরদিকে, জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ঘোনপাড়া গ্রামে আহত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মাহবুবার রহমান (৪২) শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মাহবুবার রহমান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সকালে আমাদের গ্রামে নির্বাচন নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় জামায়াত শিবিরের লোকজন আমার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা আমার শরীরে ও মাথায় বেদম প্রহার করে। তখন আমার স্ত্রী ও এলাকাবাসী এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

তিনি বলেন,‘পুলিশ এসে আমার জবানবন্দি নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করবো।’

নীলফামারী সদর থানার ওসি মো. মোমিনুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘দুটি ঘটনার মধ্যে একটির মামলা হয়েছে। ওই মামলায় জামায়াত-শিবিরের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে শুক্রবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য