সংসদ নির্বাচন দিনাজপুর ৬ আসনে এবার কি জমবে লড়াইহাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ , বিরামপুর-ছোট ছোট এই চারটি উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর-৬ আসন। কৃষি এখানকার মানুষের মূল পেশা। কিন্তু সবার আগ্রহ যেন হিলি বন্দর কেন্দ্রীক।

এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন হিলি বন্দর ঘিরেই তাদের আয়-রোজগারের পথ হতে পারতো। আমি গিয়েছিলাম হিলি স্থল বন্দরে। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম তার ৩০ গজ দুরে ভারতের সীমানা শুরু। এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি রপ্তানির কাজ হয়।

এখানেই একজন আমাকে বলছিলেন, “হিলি বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব পাচ্ছে কিন্তু এলাকার কোন উন্নয়ন নেই।” আরেকজন বলছিলেন, “এখানে কোন কল-কারখানা নেই, আমদানি-রপ্তানিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা করলে এখানে অনেক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা যেত।”

“কিন্তু আমরা সবচেয়ে অবহেলিত আসন। এখানে উন্নয়নের দিকে কারো নজর নেই। এই নির্বাচনে যে প্রার্থী এসব দিকে নজর দেবে আমি তাকেই ভোট দেব।”

এই আসনের আরেকজন জানান, “এখানে ছোট যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে, কাটা-ছেড়ার চিকিৎসা দেয়া যায়। একটা প্রসূতির জন্য ভালো কোন ব্যবস্থা নেই। আর রাস্তা এত খারাপ প্রসূতিকে সদরে নেয়ার আগেই মনে হয় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।”

১৯৯১ সাল থেকে এই আসনে একবার জামায়াতে ইসলামী আর একবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ক্ষমতায় এসেছে। বিএনপি যে খুব শক্ত অবস্থানে এখানে ছিল বা আছে তেমন না। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ার ফলে সরাসরি নির্বাচনে আসতে পারছে না তারা।

তাই স্থানীয় জামায়াতের একজন নেতা আনোয়ারুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।

অর্থাৎ জামায়াত এবং বিএনপির ভোট যাচ্ছে এক ঘরে। যে বিএনপি কখনো ভোটে টিকতে পারেনি তারা এখন জামায়াতের প্রার্থী ধরে নির্বাচনে আসছে -বিষয়টিকে কিভাবে দেখছে স্থানীয় বিএনপি?

হাকিমপুরের সাবেক পৌর মেয়র সাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, এবারের নির্বাচনে জয় নিয়ে মোটেই চিন্তা করছেন না তারা কারণ জামায়াতের ভোট তাদের জন্য ‘প্লাস পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করবে।

মি. হোসেন বলছিলেন, “এটা আমাদের কাছে ১০০% প্লাস। ভোটে জেতা নিয়ে আমরা মোটেই চিন্তা করছি না।” “এখানে আমরা অনেক শক্তিশালী অবস্থায় আছি। তবে ভোটারদের নানা ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। যদি ৫০% ভোট সুষ্ঠু হয় এই আসনে বিএনপি জিতবে।” পাশাপাশি ছোট ছোট চারটি উপজেলা নিয়ে এই আসন। মোট ভোটার এখানে প্রায় পৌণে ৫ লক্ষ।

করতোয়া নদীর পাশে এই আসনে সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। এই আসনে নবাবগঞ্জ এবং ঘোড়াঘাটসহ বাকি দুইটি উপজেলাতে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর মানুষ বেশি।

নানা ভাবে এই এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব কিন্তু সেটা যে করা হয়নি সেটা দৃশ্যমান। মানুষের মনে এই উন্নয়নের বিষয়টিই তাই গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি।

তবে ভোটের রাজনীতির চিত্র এখানে একেবারে ভিন্ন। এখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে। যেটা ভোটারদের কাছে প্রকাশ্য।

একদিকে নিজেদের দলের মধ্যে নড়বরে অবস্থা অপরদিকে জামায়াত বিএনপির একাট্টা হয়েছে, সেখানে কিভাবে মোকাবিলা করবে আওয়ামী লীগ?

দিনাজপুর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আক্কাছ আলী বলছিলেন, “একটু কঠিন হবে আমাদের জন্য। আমাদের খুব দ্রুত নিজেদের মধ্যে কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে হবে এবং মানুষের কাছে যেতে হবে।”

“যেটা এখনো আমরা করে উঠতে পারিনি। সময় কম। এখানে প্রার্থী নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও দল এবং প্রতীক দেখে মানুষ ভোট দেবে। সেক্ষেত্রে আমরা আশাবাদী মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে।”

এই আসনের চারটি উপজেলা ঘুরে যেটা মনে হয়েছে আওয়ামী লীগকে জিততে হলে প্রথমে অন্তর্কলহ মেটাতে হবে এবং মানুষকে আস্থায় আনতে হবে।

একই সাথে মহাজোটের অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক দরকার হবে তাদের।

অপর দিকে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতের নেতাকে ধানের শীষে প্রার্থী করে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে। তবে তাদের শঙ্কা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আদৌ হবে কিনা – সে নিয়ে।

আর যদি সেটা হয় তাহলে এই আসনে এবারে বড় ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আসনের অপর প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুর আলম ছিদ্দিক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহিদা খাতুন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য