অর্থ সঙ্কটে আটকে আছে সৈয়দপুর স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজঅর্থের অভাবে নীলফামারীর সৈয়দপুরে আটকে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ। কোনো সরকারি বরাদ্দ না থাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে কাজ শুরু হলেও মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে কাজ। এই অসমাপ্ত স্মৃতিসৌধে এবার মহান বিজয় দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন সৈয়দপুরবাসী। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

কয়েক দফা স্থান পরিবর্তনের পর সৈয়দপুর ডাকবাংলোর বিপরীতে ২০১৪ সালে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব ও সৈয়দপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন খোকন জানান, মুলত: অর্থাভাবে আটকে আছে স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ। এ কাজে কোনো সরকারি ও বেসরকারি অনুদান মিলেনি। আগের সংগ্রহ করা বেসরকারি অনুদানের অর্থে প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখনও ৪০ শতাংশ কাজ অবশিষ্ট রয়েছে।

কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুত দেওয়া অনুদানের টাকা সংশ্লিষ্ট কেউ না দেওয়ায় অর্থাভাবে স্মৃতিসৌধের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত হয়নি। অনেক চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে ২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সুষ্ঠভাবে স্মৃতিসৌধের কাজ সম্পন্ন করতে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এজন্য ডাকবাংলোর বিপরীতে ৫০ শতক ডোবা মাটি ভরাট করা হয়। সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে শুরু হয় শহীদ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ। স্থানীয় এমপি ব্যক্তিগত তহবিল ও আগের সংগ্রহকৃত অর্থে ৪০ ফুট দীর্ঘ টায়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এ কাজে প্রায় কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়।

এ যাবত প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। মাঝপথে এসে অর্থের অভাব পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ। এলাকাটি অরক্ষিত থাকায় সৈয়দপুর পৌরসভা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দিয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি উপজেলায় নতুন এসেছি। স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজটি সমাপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এবারে প্রথম বিজয় দিবসে অসমাপ্ত স্মৃতিসৌধই শ্রদ্ধা নিবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য