রান্নাঘরেই ত্বকের পাঁচটি সাধারণ সমস্যার সমাধানশীত এলেই কি দুশ্চিন্তা শুরু হয় আপনার? ত্বকে শুকনো টানভাব, ঠোঁট ফাটা, গোড়ালির রুক্ষ ত্বক – শীতে ত্বকের সমস্যা লেগেই থাকে! সুখের কথা হল, এ সব সমস্যারই সমাধান আছে। পার্লারে গিয়ে দামি ট্রিটমেন্ট করানোর সুযোগ তো রয়েইছে, কিন্তু নিয়মিতভাবে পার্লার যাওয়ার সময় অনেকেই বের করতে পারেন না, তা ছাড়া খরচের কথাটাও ভুলে গেলে চলবে না।

আবার অনেক সময় পার্লারের ট্রিটমেন্টে নানা রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা থেকে সমস্যা বেড়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়! তাই ত্বকের দৈনন্দিন নানা সমস্যায় ঘরোয়া ট্রিটমেন্টের শরণাপন্ন হন অনেকে। আমাদের প্রত্যেকের রান্নাঘরেই এমন প্রচুর উপকরণ রয়েছে, যা দিয়ে বানিয়ে নেওয়া যায় অসাধারণ সব ফেসপ্যাক। রুক্ষ ত্বক, কালো দাগছোপ, ঠোঁট ফাটা, আপনার সমস্যা যাই হোক না কেন, দাওয়াই কিন্তু মজুত আপনার ভাঁড়ারেই!

শুষ্ক ত্বকে দই, বেসন, হলুদ
শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা ফেরাতে ব্লসম কোচার আস্থা রাখছেন চিরন্তন বেসন আর দইয়ে। দু’ টেবিলচামচ বেসন, এক টেবিলচামচ দই, একচামচ মধু আর এক চিমটি হলুদ একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্টের মতো বানিয়ে নিন। সারা মুখে সমানভাবে লাগিয়ে পাঁচ মিনিট রেেখ ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন, ত্বক আর্দ্র কোমল থাকবে।

কেন কার্যকর: বেসনের এক্সফোলিয়েটিং গুণ ত্বকের উপর থেকে মৃত কোষ তুলে দেয় আর দই শুকনোভাব কমিয়ে ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়। হলুদ থেকে মেল বাড়তি উজ্জ্বলতা।

দাগছোপে লেবু ও অলিভ অয়েল
অনেকসময় নানা কারণে ত্বকে কালচে ছোপ পড়ে যায়। ব্রণ শুকিয়ে যাওয়ার পরেও অনেক সময় দাগ থাকে। এই সব ছোটখাটো দাগছোপ কমিয়ে ত্বকের মসৃণতা ফিরিয়ে আনতে আপনার চাই লেবুর রস আর অলিভ অয়েলের আদর। একটা বড়ো পাতিলেবুর রস বের করে নিন৷ এবার চার টেবিলচামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চাচামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণটা মুখে লাগান। 20 মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।
কেন কার্যকর: লেবুর রসে প্রাকৃতিক ব্লিচিংয়ের গুণ রয়েছে যা ত্বকের কালচে দাগছোপ কমাতে খুবই উপযোগী৷ পাশাপাশি অলিভ অয়েলের কোমল উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বক মোলায়েম রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে দাগছোপ উঠে গিয়ে ত্বক হয়ে উঠবে মসৃণ ও উজ্জ্বল৷

রোদে পোড়া ত্বকে মুলতানি মাটি
প্রবল রোদে ত্বক পুড়ে গেছে? রোদে পোড়া ত্বকে শীতলতা ফেরাতে সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ রুবি বিশ্বাস আস্থা রাখেন মুলতানি মাটির উপর। ‘‘মুলতানি মাটি একদিকে যেমন ব্রণর পক্ষে ভালো, তেমনি রোদে পোড়া ত্বক আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে হলেও খুবই কার্যকরী।’’ তেলতেলে ত্বকের মালকিনরা মুলতানি মাটি জলে গুলে লাগাতে পারেন। শুষ্ক ত্বক যাঁদের, তাঁরা দই বা মধুর মতো আর্দ্র উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে ট্যানের উপর মুলতানি মাটির প্যাক লাগান। তা হলে ত্বক আরও শুকিয়ে যেতে পারবে না।

কেন কার্যকর: মুলতানি মাটিতে হালকা ব্লিচিং উপাদান রয়েছে যা রোদে পোড়া ত্বকের আসল রং ফিরিয়ে আনতে পারে।

ফাটা ঠোঁটে গোলাপ নির্যাস
শীতে ঠোঁট ফাটে না, এমন ভাগ্যবতী বিরল! আবার অনেকেই সারা বছর ঠোঁট ফাটার সমস্যায় ভোগেন। ফাটা ঠোঁটের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে দারুণ কাজ করে গোলাপ পাপড়ি আর দুধের মিশ্রণ। সিকি কাপ দুধে পাঁচ-ছ’টা টাটকা গোলাপ পাপড়ি ঘণ্টাদুয়েকের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পাপড়িগুলো চটকে পেস্টের মতো করে নিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে 20 মিনিট মতো রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। টানা সাতদিন করতে পারলেই তফাতটা বুঝতে পারবেন।
কেন কার্যকর: গোলাপের ভিটামিন ই ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ধরে রাখে। দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ভিটামিন আর ফ্যাট ঠোঁটে সজীবতা জোগায়।

ত্বকের জ্বালা কমাতে নারকেল
রোদে পুড়ে বা অ্যালার্জির কারণে ত্বকে জ্বালা করলে বা দানাদানা বেরোলে খুব ভালো কাজে দেয় হলুদবাটা। কাঁচা হলুদ বেটে সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে সপ্তাহে একদিন মুখে মাস্কের মতো লাগিয়ে মিনিট দশেক রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। টাটকা নারকেলের দুধে তুলো ভিজিয়ে রোদে পোড়া অংশে লাগালেও ত্বকের জ্বালা, লালচেভাব কমে যায়।

কেন কার্যকর: হলুদে অত্যন্ত বেশি পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে যা সংবেদনশীল ত্বকের লালচেভাব কাটানোর পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী৷ নারকেলের দুধও প্রাকৃতিকভাবে ত্বক ঠান্ডা করতে সাহায্য করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য