পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রার অনুমতি পেল বিজেপিলোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রথযাত্রা আয়োজনে সবুজ সংকেত দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত এক আপিল আবেদনের রায়ে আদালত রথযাত্রায় যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশও দিয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, ‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা’ বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর ওই রথযাত্রায় অনুমতি দেয়নি।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলটি আদালতে গেলে হাইকোর্টের এক সদস্যের বেঞ্চ প্রথমে রাজ্য সরকারের আপত্তিতেই সায় জানায়।

বৃহস্পতিবার আপিলের রায়ে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আগের সিদ্ধান্ত বদলে দিলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রা করার অনুমতি পায়।

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ শিরোনামের এ রথযাত্রাগুলো উত্তরের কুচবিহার, দক্ষিণের কাকদ্বীপ ও বীরভূমের তারাপীঠ মন্দির থেকে শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলটির।

লোকসভার ৪২টি আসন দিয়ে যাওয়া এ তিন রথযাত্রা সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির সমর্থনের পালে হাওয়া যোগাবে বলেও আশা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের।

অমিত শাহ সামনের বছরের সাধারণ নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২২টি আসন জিততে দলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্যও নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যে বিজেপির উত্থানে ভীত হয়েই অনুমতি দিতে রাজি হয়নি বলেও মন্তব্য এ বিজেপি সভাপতির।

“কেউই এ রথাযাত্রা রুখতে পারবে না,” হুঁশিয়ারিও ছিল তার।

তৃণমূল নেতারা অবশ্য বিজেপির এ হুমকি-ধামকিকে একেবারেই পাত্তা দিচ্ছেন না।

রায়ের আগে বুধবার মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেরেক ও ব্রায়ান পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, দলটি আগের নির্বাচনে যে দুই আসন পেয়েছিল, সামনের নির্বাচনে তাও ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

“বিজেপির উচিত যে দুই আসন আছে তা বাঁচানোর চেষ্টা করা, নাহলে তারা শূন্যে নেমে আসবে। পরিণত হবে রসগোল্লায়, যেখানে কোনো মিষ্টি নেই,” বলেন ডেরেক।

বিজেপির রথযাত্রার একদিন পর তৃণমূল ‘পবিত্র যাত্রা’ নামে শোভাযাত্রার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য