বিরামপুরে আমন মৌসুমে গ্রাম বিকাশের ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেবিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদাতাঃ বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের মোট আয়ের সিংহভাগ কৃষিখাত থেকেই আসে। খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিমূলক সেমিনার উপজেলার কৃষি অধিদপ্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রতিনিয়ত কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে কাজ করে আসছে। তেমনি ভাবে চলতি আমন মৌসুমে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার কাটলা, জোতবানী ও বিনাইল ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম বিকাশ (জিবিকে)’র পেইস প্রবল্পের আওতায় সুগন্ধী ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন” শীর্ষক ভ্যালু চেইন প্রকল্পে ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান চাষ কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সনাতন পদ্ধতি এড়িয়ে কিভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে কম খরচে পোকামাকড় দমনে গুনগত মানসম্পন্য বেশী ফলন ও চড়া বাজার মূল্য পাওয়া যায় সেই কারিসমা এখন গ্রাম বিকাশ কেন্দের কৃষকদের মাঝে নতুন চমক রূপে সাড়া ফেলেছে।

গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র হলদীবাড়ী, পার্বতীপুরের পেইস প্রকল্প উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বেপারীপাড়া, জোতবানী ইউনিয়নের ধনসাডাঙ্গা, একইর, জোতবানী, কসবাসাগরপুর ,বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়ামোড়, রামকৃষœপুর, বিনাইল উত্তরপাড়া এলাকায় কৃষকদের সমিতির মাধ্যমে ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান চাষ প্রকল্পের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকল্পের সুফল পেতে গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র ভ্যালুচেইন প্রকল্প কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় ‘‘ ৩৪ সুগন্ধী জাত ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ” শীর্ষক প্রকল্প অর্ন্তভুক্ত কৃষকদের উন্নত পদ্ধতি , রোগ-পোকা মাকড় দমন, সুষম সারের ব্যবহার, সিঙ্গিল হিল মেথড , পার্চিং , রোগ ও পোকা মাকড় দমন বিষয়ে ২ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের ৩৪ সুগন্ধী ধান উৎপাদক দলের সদস্য মোঃ বাবু মিয়া ও সদস্যা মোছাঃ ফাউমিদা আকতার এর নিকট জানতে চাইলে তাঁরা জানান, এর আগে তাঁরা কখনো আধুনিক পদ্ধতিতে আমনধান চাষ করেননি। বরাবরের ন্যায় সনাতন (গতানুগতিক ) পদ্ধতিতে ধান চাষ করে আসছিলেন। চলতি আমন মৌসুমে প্রত্যেকেই ৩৩ শতাংশ জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান লাইনে একটি করে চারা সারিতে রোপন করে পরিমিত পরিমান সেচ, সুষম পরিমান সার ও স্বল্পপরিমান কীটনাশক ব্যবহার করে মাজরা পোকার আক্রমন থেকে রক্ষার জন্য কঞ্চির পাচিং ব্যবহার করে আবাদে ভাল ফলন পেয়েছেন । এতে তাঁদের উৎপাদন খরচ কম হয়েছে। ৩৩ শতাংশ জমিতে ১৫ মন ধান পেয়েছেন।

অন্যদিকে উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের তিলনা গ্রামের ব্রি ৩৪ সুগন্ধী ধান উৎপাদন দলের সদস্য মোঃ আজিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমন মৌসুমে সনাতন পদ্ধতিতে প্রচলিত জাতের ধান চাষ করতেন। প্রচলিত জাতের ধানের ফলন ও বাজার মূল্য কম হওয়ায় তিনি চলতি আমন মৌসুমে ৩৩ শতাংশ জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রত্যেক লাইনের সারিতে একটি করে চারা রোপনে পরিমান মাফিক সার, যৎ সামান্ন কীটনাশক, জমির মাজরা পোকা দমনে পাচিং বহারের করে ১৬ মণ ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান পেয়েছেন। তুলনমূলক খরচ কম হওয়াই এবং বাজারে ব্রি -৩৪ সুগন্ধী ধানের চাহিদা বেশী হওয়াই তিনি বেশী দাম পেয়ে লাভবান হয়েছেন। প্রচলিত জাতের ধানের চাইতে ব্রি-৩৪ সুগন্ধী জাতের ধান আবাদে ৫ থেকে-৭ হাজার টাকা বেশি আয় হওয়ায় গ্রাম বিকাশের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে) এর প্রধান নির্বাহী জনাব মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আর্ন্তজাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র এর আর্থিক সহযোগিতায় বিরামপুর উপজেলার ১ হাজার জন কৃষককে ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান চাষের আধুনিক কলাকৌশল বিষয়ক পরামর্শ প্রদান ও প্রদর্শনী প্লট ও মাঠ দিবসের আয়োজন করে আসছে। এর ফলে কৃষক তাদের প্রচলিত চাষাবাদ থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহন করেছে এবং বাজারের সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভাল দাম পেতে শুরু করেছে। যা তাদের অথনৈতিক অবস্থার ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন অবদান রাখছে। তিনি আশা করেন, উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ও জীবন যাত্রার মান পরির্বতন সম্ভব।

বিরামপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিকছন চন্দ্র পালের পরামর্শ ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র পেইস প্রকল্পের আওতায় ও ভ্যালুচেইন প্রকল্পের সহযোগিতায় ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান চাষে কৃষকেরা বর্তমানে ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় বেশ আনন্দিত। এই ধান চাষে বিরামপুর উপজেলার কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছে। অন্যান্য প্রচলিত ধানের উৎপাদন খরচ বেশী ও বাজার মূল্য কম। সেই জন্য এ অঞ্চলের কৃষকেরা লাভবান হতে আগামী মৌসুমে আমন জাত ব্রি-৩৪ সুগন্ধী ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য