আজ ১৮ ডিসেম্বর সৈয়দপুর মুক্ত দিবস১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও নীলফামারীর সৈয়দপুর হানাদার মুক্ত হয় ১৮ ডিসেম্বর। এই দিন ভোরে ৬ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে আক্রমণ চালিয়ে সেনানিবাস দখলে করে সৈয়দপুর মুক্ত করে। পরে ৬ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম কাজী ওমর আলী ও স্থানীয় নেতারা স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ যুদ্ধের শুরুতেই এখানে প্রথম শহীদ হন চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহাতাব বেগ। ২৪ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ডা. জিকরুল হক, তুলসীরাম আগরওয়ালা, ডা. সামছুল হক, ডা. বদিউজ্জামান, ডা. ইয়াকুব আলী, যমুনা প্রসাদ কেডিয়া, রামেশ্বরলাল আগরওয়ালা, নারায়ণ প্রসাদ, কমলা প্রসাদসহ নিহত হয়েছেন জেলার অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তি।

১৯৭১ সালে ১৩ জুন শহরের ৪৪৭ জন হিন্দু মাড়োয়ারী পরিবারের সদস্যকে ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার নামে ট্রেনে তুলে রেলওয়ে গোলাহাট নামক স্থানে সবাইকে ট্রেন থেকে নামিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ সময় লুটে নেওয়া হয় তাদের সর্বস্ব। শিশুদের তারা বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। সৈয়দপুরে যুদ্ধকালীন সময়ে কত যে লোককে হত্যা করা হয়েছে এর কোনও সঠিক পরিসংখ্যান আজও পাওয়া যায়নি। তবে ওই দিন পুরো শহরে ৩৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যা করা হয়। নীলফামারীর ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে বড় গণহত্যা।

প্রতক্ষ্যদর্শী ও গণহত্যার স্বাক্ষী তপন কুমার দাস ওরফে কাল্টু দা (৭৩) বলেন, ‘সৈয়দুপর ক্যান্টমেন্টের ক্যাপ্টেন গুলঝাঁও এর নির্দেশে পাকিস্তানি বাহিনীর লোকজন মাইকে ঘোষণা করে সৈয়দপুরে আটকে পড়া হিন্দু মাড়োয়ারীদের ভারতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ প্রেক্ষিতে ১৩ জুন সেই মোতাবেক সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে হিন্দু মাড়োয়ারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে ট্রেনে চেপে বসেন। পরে শহরের উত্তরে গোলাহাট নামক স্থানে ট্রানটি থামিয়ে নির্মমভাবে নিরীহ বাঙালীদের হত্যা করা হয় ।

তিনি আরও বলেন, ‘এই দৃশ্য দেখে ট্রেনের ২১ জন যুবক লাফিয়ে পড়ে নিজের জীবন রক্ষা করে। এদের মধ্যে তপন কুমার দাস (৭৩), বিনোদ কুমার আগরওয়ালা (৭৪) ও শ্যাম সুন্দর সিঙ্গিনিয়া (৭৩) এখনও বেঁচে আছে। ’
সৈয়দপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে বিজয় সৈয়দপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে,র্যা লী, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধের নাটক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য