সন্তানকে রক্ষা করুন ডিপ্রেশনের কবল থেকেবন্ধুদের সঙ্গে টিফিন খাওয়া নিয়ে সামান্য মনোমালিন্য। আর এই সামান্য কথা কাটাকাটিটুকু মেনে নিতে পারল না ক্লাস সিক্সের ছোট্ট মেয়েটি। মা এবং দিদির অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করল সে!

App DinajpurNews Gif

সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির জন্য বকেছিলেন মা। ক্লাস টেনের ছেলেটি হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যা করল ক্লাস টেনের ছেলেটি।

সাম্প্রতিককালে খবরের কাগজের পাতায় চোখ রাখলে হামেশাই চোখে পড়ে এ ধরনের খবর। অনেক কারণ থাকতে পারে একটি অল্পবয়সী ছেলে বা মেয়ের এ হেন আচরণের। তার মধ্যে একটা কারণ ডিপ্রেশন বা অবসাদ। হাসপাতালগুলোতে ডিপ্রেসড টিনএজার রোগীর সংখ্যা বিগত এক বছরেই 15-20 শতাংশ বেড়ে গেছে।

একসময় ছেলেমেয়েরা যৌথ পরিবারে বাবা-মা ছাড়াও পরিবারের অন্য গুরুজনদের স্নেহের ছত্রছায়ায় থাকত। এখন পরিস্থিতি অনেক পালটে গেছে। যৌথ পরিবার আর নেই বললেই চলে। অনেক ছেলেমেয়েই বাবা-মায়ের বিশ্রী বিবাহবিচ্ছেদের সাক্ষী। ফলে একাকীত্ব খুব দ্রুত গ্রাস করছে এই সব কিশোর কিশোরীদের।

তার সঙ্গে পরীক্ষায় ফেল করার ভয়, প্রেমে প্রত্যাখান এবং ক্রমাগত নিত্যনতুন জিনিসের চাহিদাও আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ছেলেমেয়েরা কিন্তু অনেক সময়ই তাদের আচরণের মাধ্যমে ডিপ্রেশন বা আত্মহত্যাপ্রবণতার কথা জানান দিয়ে থাকে। অবশ্য বেশিরভাগ বাবা-মাই তা বুঝতে সক্ষম হন না। সন্তানের হাতে হয় দামি উপহার বা অযথা বকাঝকাকেই তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র বলে মনে হয়।

কীভাবে বুঝবেন আপনার সন্তান ডিপ্রেশনের শিকার কিনা?
ডিপ্রেশনের কিছু খুব স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। সন্তানের দিকে নজর দিন দেখুন নিচের লক্ষণগুলোর কোনওটা তার মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন কিনা।

  1. প্রতিদিনের কাজকর্মে অনীহা
  2. অপরাধবোধ এবং আত্মপ্রত্যয়ের অভাব
  3. রাত্রে না ঘুমোনো

  4. খিদে না পাওয়া বা বেশি-বেশি খাওয়া

  5. ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং আশেপাশের ঘটনা থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া

  6. অধ্যবসায়ের অভাব, দুর্বল স্মৃতি এবং নেগেটিভ চিন্তাভাবনা

  7. আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলা বা সেই বিষয়ে নেটসার্ফিং করা

সাহায্যের হাত
সন্তান যখন আপনার তখন সবচেয়ে বেশি দায়িত্বও আপনার। সে পড়াশোনা করছে কিনা সেটা দেখা যেমন কর্তব্য, সেরকমই তার মনে কী চলছে সেটা বোঝাটাও জরুরি। হোমওয়ার্কের খাতা দেখার সঙ্গে খোঁজ নিন সে সারাদিন স্কুলে বা কলেজে কী করেছে। তাকে কোনও বিশেষ ঘটনা তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে কিনা সেটাও বোঝার চেষ্টা করুন।

পরীক্ষার ফল খারাপ হলে বকাঝকা না করে সন্তানের আত্মপ্রত্যয় বাড়ান। তাকে বলুন পরের বার নিশ্চয়ই ভালো হবে। প্রয়োজনে যেখানে সে পড়ছে সেখানকার শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন।

এখন অনেক অনলাইন সাইটে বাবা-মা সমেত সন্তানের বিনামূল্যে কাউন্সেলিং হয়, সেখানে অংশগ্রহণ করুন। এম নাসের, শিব খেরা, স্টিভ জোবস, এরিক থমাসের মতো জনপ্রিয় বক্তাদের মোটিভেশনাল স্পিচ সন্তানকে শোনান।

শরীর যেরকম খারাপ হয়, ঠিক সেরকমই মনও খারাপ হতে পারে। তাই সেই সমস্যাকে এড়িয়ে না গিয়ে সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠুন। যে কোনও মনোবিদের আগে আপনিই তার নিশ্চিন্ত আশ্রয়। তাই যে কোনও পরিস্থিতিতে তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে কখনও কুণ্ঠাবোধ করবেন না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য