আস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্বে টিকে ইইউ সম্মেলনে থেরেসাআস্থা ভোটে টিকে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাসেলস যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রেক্সিটের পর আইরিশ সীমানা উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আইনবদ্ধ অঙ্গীকার আদায়ের চেষ্টা করবেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বুধবার (১২ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে উতরে যান দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সে থেরেসা মের পক্ষে ভোট দেন কনজারভেটিভ পার্টির ২০০ জন পার্লামেন্ট সদস্য। বিরুদ্ধে ভোট দেন ১১৭ জন।

এই ফলাফলের মাধ্যমে আরও অন্তত এক বছরের জন্য কনজারভেটিভ পার্টির দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রিত্বের পদকে সুরক্ষিতকরতে সক্ষম হন মে। এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে আর আস্থা ভোটের দাবি গৃহীত হবে না। আস্থা ভোটে টিকে যাওয়ার একদিন না পেরোতেই ইইউ সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

থেরেসার ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে এমপিদের বিরোধিতার মুখে পড়ার ক্ষেত্রে আইরিশ সীমান্ত প্রশ্নটিই মূল। পরিস্থিতি বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে বিবিসির ধারণা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন হয়তো চুক্তিটি নিয়ে পুনঃ আলোচনা করবে না। তবে অস্থায়ীভাবে আইরিশ ব্যাকস্টপ (আইরিশ সীমান্ত উন্মুক্ত রাখা) চালু রাখার ব্যাপারটিকে আরও জোরালোভাবে নিশ্চিত করতে পারে তারা।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের (১৩ ডিসেম্বর) ইইউ সম্মেলনে ব্রেক্সিট চুক্তি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে ইইউ’র অপর ২৭ জন নেতার সঙ্গে মুখোমুখি আলাপ করার সুযোগ পাবেন থেরেসা। এরপর থেরেসা মে-কে ছাড়াই আলাদা এক বৈঠকে ইইউ নেতারা কী করা যায় সে ব্যাপারে কথা বলবেন।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপীয় কাউন্সিল সে উপসংহারে পৌঁছেছে, তার খসড়াকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, আইরিশ ব্যাকস্টপকে (আইরিশ সমিান্ত উন্মুক্ত রাখা) পুনঃস্থাপিত করে পরবর্তীতে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে ইইউ। যেন আইরিশ ব্যাকস্টপ ক্ষণস্থায়ী হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও যদি আইরিশ ব্যাকস্টপ থেকে যায় তবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে ইইউ। তবে বিবিসির প্রতিনিধি অ্যাডাম ফ্লেমিং বলছেন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের খসড়াটি পরিবর্তন করা হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য