যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল কানাডাকানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বহিঃসমর্পণের মামলাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন।

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের সিএফও মেং ওয়ানঝৌকে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরে ওয়াশিংটনের অনুরোধে হস্তক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের একদিন পর অটোয়ার পক্ষ থেকে এ প্রতিক্রিয়া এল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রিল্যান্ড কানাডার আরেক নাগরিককেও চীন আটক করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে সোমবার কানাডার সাবেক কূটনীতিক মাইকেল করভিগকে আটকের খবর নিশ্চিত করে।

ভ্যাঙ্কুবারে বিমান বদলানোর সময় গত ১ ডিসেম্বর কানাডীয় কর্তৃপক্ষ মেংকে গ্রেপ্তার করে। হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার কন্যা মেংয়ের বিরুদ্ধে বহুজাতিক বিভিন্ন ব্যাংককে ইরানের সঙ্গে লেনদেন বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

ওইসব ভুল তথ্যের জন্য ব্যাংকগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নিষেধাজ্ঞা লংঘন ও বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মেং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হুয়াওয়ের এ প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বেইজিং। দুই দেশের কর্তৃপক্ষই কানডীয় করভিগের আটকের সঙ্গে মেংয়ের গ্রেপ্তারের কোনো যোগসাজশ নেই বলে দাবি করলেও কানাডার বিশেষজ্ঞ কূটনীতিকরা বলছেন, দুটি ঘটনাই একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

মঙ্গলবার রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কিংবা চীনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সাহায্য করবে এমন সম্ভাবনা থাকলে মেংয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের মামলায় তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ফ্রিল্যান্ড বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনী প্রক্রিয়াকে ছিনতাই করা উচিত নয়। বহিঃসমর্পণ বিষয়ে আইনী লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে মেংয়ের আইনজীবীরাও ট্রাম্পের মন্তব্যকে ব্যবহার করতে পারে, ধারণা তার।

“আমাদের বহিঃসমর্পণ অংশীদারদের উচিত নয় বহিঃসমর্পণ প্রক্রিয়াকে রাজনীতিকরণ করা কিংবা বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা,” বলেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ফ্রিল্যান্ডের এ মন্তব্য কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

উত্তর আমেরিকান দেশগুলোর মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মধ্যস্থতায় এমনিতেই অটোয়া ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ট্রাম্প বহিঃসমর্পণের অনুরোধের অপব্যবহার করতে পারেন এমন আশঙ্কা আছে মার্কিনিদেরও।

“এটি আইনী বিষয়, যা ঠিকভাবে কার্যকর হওয়া দরকার। কিন্ত আপনার (ট্রাম্প) মন্তব্য কেবল দুই দেশের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বহিঃসমর্পণ চুক্তিকে খর্বই করতে পারে,” বলেছেন কানাডায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ব্রুস হেইম্যান।

তাকে ট্রাম্পের পূর্বসুরী বারাক ওবামা কানাডায় দূত হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন।

মঙ্গলবার কানাডার একটি আদালত হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মেংকে এক কোটি কানাডীয় ডলারের বিনিময়ে জামিন দেয়। আগামী বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে ফের ওই আদালতের বিচারকের সামনে উপস্থিত হতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো মেংকে হস্তান্তরে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেনি। অনুরোধ করলে কানাডার আদালতেই ব্যাপারটির ফয়সালা হবে।

বিচারক হুয়াওয়ের সিএফওকে বহিঃসমর্পণের অনুরোধে সাড়া দিলে মেংকে ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন কানাডার বিচারমন্ত্রী।

কানাডার সরকারি কর্মকর্তারা এর আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বহিঃসমর্পণ ঠেকাতে মেংয়ের হাতে অনেকগুলো আইনী বিকল্প আছে বলে জানিয়েছিলেন। তাকে হস্তান্তরের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছিলেন তারা।

মেংকে হস্তান্তরে ওয়াশিংটনের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে এমনটা মনে হলেও কানাডার বিচার বিভাগ মার্কিন অনুরোধে নারাজি জানাতে পারে, জানিয়েছে রয়টার্স।

অটোয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে মনোযোগী হলেও হুয়াওয়ের এ সিএফওকে গ্রেপ্তার চীন-কানাডার সম্পর্ককে আরও নাজুক করেছে।

ফ্রিল্যান্ড সাবেক কূটনীতিক করভিগকে আটকের ঘটনায়ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। চীনা কর্মকর্তারা আরও এক কানাডীয় নাগরিককে আটক করেছে বলেও সন্দেহ তার।

নাম না জানা ওই ব্যক্তি কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে চীনা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

“তিনি এটা জানানোর পর থেকে আমরা আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। আমরা তার সন্ধান জানতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, বিষয়টি চীনা কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে,” বলেছেন কানাডীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য