দিনাজপুরে ‘কেউ বাদ যাবে না’ শ্লোগানকে সামনে রেখে কর্মশালা অনুষ্ঠিতদিনাজপুর সংবাদাতাঃ ‘ইম্প্রুভিং ইনডিজিনাস পিপলস একসেস টু জাস্টিস এন্ড ডেভেলেপমেন্ট থ্রু কমিউনিটি বেসড মনিটরিং’ প্রকল্পের সংলাপ ও কর্মশালা আজ ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ সকাল ১০ টায় পাস্টরাল ফরমেশন সেন্টার, মাথাসাগর, দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা।

কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেনের এর সভাপতিত্বে এই কর্মশালার বক্তব্য রাখেন ড:মাসুদুল হক সহযোগী অধ্যাপক দশন বিভাগ, দিনাজপুর সরকারী কলেজ; ডা:আহাদ আলী পরিচালক সদর হাসপাতাল দিনাজপুর, সিডিএ’র নিবাহী পরিচালক শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ প্রমুখ, নাট্যকমী তারিকুজ্জামান তারিক, দিনাজপুর জজ কোটের এপিপি এ্যাডভোকেট গনেশ সরেন, দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক মিনারা পারভীন ডালিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন কাপেং ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মারিও সুইটেন মুরমু এবং প্রকল্পের পরিচিতমূলক সার সংক্ষেপ তুলে ধরেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নিবাহী পরিচালক মি: পল্লব চাকমা ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড: মাসুদুল হক বলেন, আদিবাসী নেভিগেটর প্রকল্পটি’র মাধ্যমে বাংলাদেশের আদিবাসী জনগণ নিজেরাই নিজেদের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি আদিবাসীদের বৈষম্য,বঞ্চনার বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরেন ।

শাহ-ই-মবিন জিন্ন্াহ বলেন, আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য সর্বোপরি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আদিবাসী বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা এবং আদিবাসী প্রতিনিধিদের আন্তরিক হতে হবে। আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী না বলে আদিবাসী হিসেবেই স্বীকৃতি দিতে হবে।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল হতে আগত প্রায় ৫০ জনের অধিক আদিবাসী প্রতিনিধি, মানবাধিকার, উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষাবিদবৃন্দ এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালার আয়োজকরা জানান, ইন্ডিজিনাস নেভিগেটর প্রকল্পের মাধ্যমে আদিবাসীরা আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকারের মধ্যে নিজেদেরকে কিভাবে আরো বেশি অর্ন্তভূক্ত করতে পারবে সে বিষয়ে কাজ করবে। বিশেষ করে স্থানীয়, জাতীয় ও বিশ্বব্যপী এসডিজি পর্যবেক্ষণে তথ্য দিয়ে অবদান রাখা এবং আদিবাসী জনগণ পিছনে পড়ে রয়েছে কি না তা নিরীক্ষণের মাধ্যমে তুলনামুলক তথ্য তৈরীতে আদিবাসীদেরকে সাহায্য করবে প্রকল্পটি।

বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সংগ্রামের ভাষাকে মূল জন¯্রােতের উন্নয়নের ধারায় অর্ন্তভূক্ত করার জন্য কাপেং ফাউন্ডেশন ও আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা এ বছরের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে ‘ইম্প্রুভিং ইনডিজিনাস পিপলস একসেস টু জাস্টিস এন্ড ডেভেলেপমেন্ট থ্রু কমিউনিটি বেসড মনিটরিং’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেন। আদিবাসী নেভিগেটর প্রকল্পে আদিবাসীদের সুনিদিষ্ট তথ্য-উপাত্ত প্রাথমিক ভাবে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায় হতে সংগ্রহ করছেন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষিত আদিবাসী প্রতিনিধি ও প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তাবৃন্দ।

এই পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের ১৫’টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তথ্য বিশ্লেষণে প্রান্তিক আদিবাসীদের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। সংগ্রহীত তথ্য গুলোর ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী মহলে আদিবাসীরা এ্যাডভোকেসীর কাজ করতে পারবে। এই প্রকল্পটি সরকারের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের জরিপের সাথে প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ব্যবধান কমানোর জন্য পরবর্তীতে জাতীয় পরিসংখ্যান কর্মকর্তা’র দপ্তরে প্রাপ্তলব্ধ তথ্য পৌঁছানোর কাজও প্রকল্প করবে।

আদিবাসীরা সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে পারবে এবং নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবে। ‘কেউ বাদ যাবে না’ এসডিজির এই শ্লোগানের সহিত আর্ন্তজাতিক মানবাধিকারের মূল সনদ এবং বিশ্ব আদিবাসী সম্মেলনের সব বিষয়গুলোকে অর্ন্তভূক্ত করেই এ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য