কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে শুরু করে চলতি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৪৯৪টি হেমোরেজিক ফিভারের কথা জানা গেছে। এর মধ্যে ৪৪৬ জনের এ রোগে সংক্রমণের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতোমধ্যে এ সংক্রমণ থেকে সুস্থতা লাভ করেছেন ১৬৫ জন। এছাড়া আক্রান্ত ৪৮ জনের মৃত্যুর জন্য ইবোলা সংক্রমণই দায়ী কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেননা, কোনও ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের সমাহিত করা হয়।

দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, কঙ্গোর ইতিহাসে এটি ইবোলাজনিত সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। গৃহযুদ্ধকবলিত কঙ্গোর ইবোলা আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলা এবং সম্প্রদায়গুলোর পাল্টা প্রতিরোধমূলক পরিস্থিতিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে তারা।

মধ্য আফ্রিকার উত্তরাংশে কঙ্গোর উপত্যকায় প্রবাহিত ইবোলা নদী থেকে ইবোলা ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। সর্বপ্রথম ১৯৭৬ সালে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়। ২০১৪-১৫ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তখন বেশি আক্রান্ত হয়েছিল গিনি, সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়া। ২০১৪ সালে কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এ বছরের জুলাই মাসে দেশটিতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলি ইলুঙ্গার অভিযোগ, সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কারণে তাদের ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিকিৎসা সহায়তাকারী দলকে অনবরত হয়রানি করে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা। গত সেপ্টেম্বরে বেনি শহরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানকার ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসাকর্মীদের কাজে ব্যাঘাত তৈরি না করার জন্য বিদ্রোহীদের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা।

কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইলুঙ্গা বলেন, ‘আমরা এখন যে অবস্থার মধ্যে আছি, বিশ্বের আর কোনও প্রাদুর্ভাব এতোটা জটিল আকার ধারণ করেনি।’ তিনি জানান, সপ্তাহে গড়ে তিন থেকে চারবার চিকিৎসা সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে। পূর্ববর্তী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘটনাগুলোর তুলনায় এবারের সহিংসতার মাত্রা নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন ইলুঙ্গা।

১৯৭৬ সালে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এ নিয়ে দশমবারের মতো কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটলো। বানর এবং বাদুড়ের মতো বন্য প্রাণী থেকে প্রথম এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়। দেহ থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন ধরণের রসের (রক্ত, লালা) মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। ইবোলার উল্লেখযোগ্য কোনও চিকিৎসা নেই। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, ডায়রিয়া, বমি, পেশীতে ব্যথা, অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঘটনায় এই ভাইরাস প্রাণঘাতী হতে পারে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য