থাইল্যান্ডে রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাথাইল্যান্ডের সামরিক সরকার দেশটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচন ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সামরিক সরকারের এই ঘোষণায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর দীর্ঘ চার বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলো। ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে সামরিক অভ্যূত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিল সামরিক সরকার। এরপরই দেশটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার বারবার দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছিল। কিন্তু বেশ কয়েকবার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

টানা কয়েক মাসের সহিংসতার পর ২০১৪ সালে সামরিক সরকার দায়িত্ব দেয়। ওই সময় তাদের দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থেই তারা ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। পরে সরকার দেশটির নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কারে নতুন সংবিধান প্রনয়ণ করে। ২০১৭ সালে এক গণভোটে এই সংস্কারে অনুমতি দেয় থাইল্যান্ডে জনগণ।

নতুন সংবিধান অনুসারে, নির্বাচনের পরও দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে বহাল থাকবে সেনাবাহিনী।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে গত চার বছরে অসংখ্য মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বড় ধরনের বিক্ষোভ এড়াতে ৫ জনের বেশি মানুষের সমাগমেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। মঙ্গলবারের ঘোষণার ফলে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নীতির প্রচারে কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে।

থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে প্রায়ই সামরিক হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৩২ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর প্রথম সংবিধান রচিত হওয়ার পর হতে ১২ বার ক্ষমতা গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য