Rangpur Mapউৎসব মুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছে প্রার্থীরা। রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসন থেকে এবার ৪৩ জন প্রার্থী জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার লড়াইয়ে ভোট যুদ্ধের মাঠে নেমেছেন। সোমবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে শুরু হয় সরগরম প্রচারণা।

এবার রংপুর-১, রংপুর-৩ ও রংপুর-৬ এ মহাজোটের এককপ্রার্থী রয়েছে। এ ছাড়া বাকি তিনটি আসনে নৌকা ও লাঙ্গলের প্রতীকে রয়েছে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির প্রার্থী। এ ছাড়া দীর্ঘ দশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ধানের শীষ প্রতীকে দল থেকে চার এবং জামায়াতে ইসলামি ও নাগরিক ঐক্যের দুই প্রার্থীকে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে রেখেছেন। ধানের শীষ নিয়ে ভোট খেলতে মাঠে নামা ছয় প্রার্থীর মধ্যে দুইজন প্রার্থীকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অচেনা মুখ বলে দাবি করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। যদিও এনিয়ে প্রার্থীদের মাথা ব্যথ্যা নেই।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনে চারটিতে নৌকা-লাঙ্গল-ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটযুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও মাঠ জরিপে নৌকার প্রার্থীরাই এগিয়ে আছে। অন্যদিকে বাকি দুটি আসনে লাঙ্গলের শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

নৌকা-লাঙ্গল-ধানের শীষ প্রতীকসহ বিভিন্ন প্রতীকে রংপুর জেলায় ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে মহাজোটের প্রার্থী ৩, আওয়ামী লীগের ৪ জন, জাতীয় পার্টির ৪, বিএনপির ৩, জামায়াতে ইসলামীর ১ জন। এ ছাড়া নাগরিক ঐক্যের ১, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ৫, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ৪, খেলাফত মজলিসের ১, জাকের পার্টির ৪, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ১ জন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিপি) ১, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু) ২, বিকল্পধারার ১, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ২, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির ১, বিএনএফ’র ২ জন এবং স্বতন্ত্র রয়েছে ৩ জন প্রার্থী।

রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) আসন: জাতীয় পার্টির মহাসচিব বর্তমান এমপি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙা (মহাজোট-লাঙল), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু (স্বতন্ত্র-মটর কার), নাগরিক ঐক্যের শাহ্ মোঃ রহমতুল্লাহ (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষ), মোক্তার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), ইশা মোহাম্মদ সবুজ (এনপিপি-আম), সিএম সাদিক (স্বতন্ত্র- সিংহ)।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) আসন: বর্তমান এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক (আ.লীগ-নৌকা), আসাদুজ্জামান চৌধুরী সাবলু (জাপা-লাঙল), সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার (বিএনপি-ধানের শীষ), সাবেক এমপি আনিছু ইসলাম রহমান মন্ডল (স্বতন্ত্র-সিংহ), মোঃ আশরাফ আলী (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), কুমারেশ চন্দ্র রায় (জাসদ-মশাল), হারুন অর রশিদ (বিকল্পধারা-কুলা), আশরাফ-উজ-জামান (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), জিল্লুর রহমান (বিএনএফ-টেলিভিশন), ওয়াসিম আহমেদ (এনপিপি-আম)।

রংপুর-৩ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন) আসন: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান এমপি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (মহাজোট-লাঙল), পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান রিটা রহমান (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষ), আমিরুজ্জামান পিয়াল (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), সাব্বির আহম্মেদ (পিডিপি-বাঘ), সাখাওয়াত রাঙ্গা (জাসদ-মশাল), আনোয়ার হোসেন বাবলু (ওয়াকার্স পার্টি-কোদাল), আলমগীর হোসেন আলম (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল), তৌহিদুর রহমান মন্ডল (খেলাফত মজলিস-দেওয়াল ঘড়ি) ও ছামসুল হক (এনপিপি-আম)।

রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসন: বর্তমান এমপি টিপু মুনশি (আ.লীগ-নৌকা), এমদাদুল হক ভরসা (বিএনপি-ধানের শীষ), মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল (জাপা-লাঙল), মাওলানা বদিউজ্জামান (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা) ও আবদুস সাদেক মিয়া (বাসদ-মই), লায়লা আঞ্জুমান আরা (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল)।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন: বর্তমান এমপি এইচএন আশিকুর রহমান (আ.লীগ-নৌকা), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম রব্বানী (ঐক্যফ্রন্ট-ধানের শীষ), এসএম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর (জাপা-লাঙল), শফিকুল ইসলাম ভোলা মন্ডল (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), শামীম মিয়া (জাকের পার্টি-গোলাপ ফুল) ও মমিনুল ইসলাম (বাসদ-মই)।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন: জাতীয় সংসদের স্পীকার বর্তমান এমপি ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (মহাজোট-নৌকা), সাইফুল ইসলাম (বিএনপি-ধানের শীষ), বেলাল হোসেন (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা), হুমায়ুন এজাজ (এনপিপি-আম), অধ্যাপক কামরুজ্জামান (কমিউনিস্ট পার্টি-কাস্তে), এবিএম মাসুদ সরকার মজনু (বিএনএফ-টেলিভিশন)।

এদিকে প্রচার-প্রচারণাতে অংশ নেয়া প্রার্থী ও সমর্থকদেরকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছে রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন। তিনি জানান, রংপুর জেলায় ৬১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। বর্তমানে ৪৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য রয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য