কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের টিআর (গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার)এবং কাবিখা(কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসুচীর কাজ না করেই ভুয়া বিল,ভাউচার করে চুড়ান্ত বিল তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রকল্পের টাকা দিয়ে কাজ না করে, স্বপ্ন প্রকল্পের মহিলা দিয়ে ভবনের প্রয়োজনীয় কাজ করে নেন।

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য হাসিনা খাতুন হলেও তা উত্তোলন করে নেন সংশিল্ট ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে,রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের সামনে ও দক্ষিণ পাশে নিচু জায়গা মাটি ভরাটের জন্য ১৭ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিচু জায়গার চারপাশে উঁচু আইল বানিয়ে বেড়ি বাঁধ করে রাখলেও মাটি ভরাটের কাজ করা হয়নি।

গত ৩০জুন/১৮ তারিখের মধ্যে কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নামে অধিকাংশ প্রকল্পের টাকা ব্যাংকে ও চাউল খাদ্য গুদামে জমা রাখা হয়। চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সভাপতি পরে বিল করে খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করে নেয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিজে না গিয়ে অফিসের পিয়ন দিয়ে তদারকি করে ভুয়া বিল ভাউচার করে প্রকল্পের বরাদ্দ ছাড় করেছেন।

এর বিনিময়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা পেয়েছেন টু-পাইস। ফলে তদারকি করার প্রয়োজন হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ ও চুড়ান্ত বিল উঠানোর ৫ মাস পরেও যখন কাজ হয়নি তখন থলের বিড়াল বের হয়ে যায়। গত অর্থ বছরেও ওই মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ করা হয়নি। দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ হলে সংশিষ্টদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বার তদন্ত হয় এবং প্রমানিত হয়।

কিন্তু কয়েকটি প্রকল্পের কাজ করলেও বাকী গুলো কাজ না করেই টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যান অভিযুক্তকারীরা। এ ব্যাপারে প্রকল্প সভাপতি হাসিনা খাতুন জানান কিছু মাটি আগে কাঁটা হয়েছে,বাকি মাটি কাটার জন্য ড্রেজার মেশিন বসিয়েছি। কিন্তু অভিযোগে জানা গেছে ১৭ মেট্রিক টনের প্রকল্পের কোন কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, ওই প্রকল্পে টাকা দিয়ে আমি পরিষদের জন্য জায়গা ক্রয় করেছি।

তবে এলাকাবাসী জানান,পরিষদের জমি অনেক আগেই কেনা হয়েছে। মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজিজুর রহমান বিডিআর,আওয়ামীলীগ নেতা গ্রাম্য ডাক্তার আদিল চন্দ্র ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক আবু হানিফ সহ অনেকেই অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান কাজ না করেই পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেছেন।

এ ব্যাপারে রাজিবপুর উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজার হোসেন জানান চেয়ারম্যান সাহেবের অনুরোধে বিলটি পাশ করে দিয়েছি। কোন টাকা পয়সা নেওয়া হয়নি। আর কাজ করবে বলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছিল কিন্তু ু শুরু করেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য