12 12 18

বুধবার, ১২ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী

Home - দিনাজপুর - বীরগঞ্জ, বোচাগঞ্জ ও বিরামপুরে পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

বীরগঞ্জ, বোচাগঞ্জ ও বিরামপুরে পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

৬ ডিসেম্বর বোচাগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত দিবসে পালতিডেক্স রিপোর্টঃ আজ ৬ ডিসেম্বর দিনাজপুর জেলার কয়েকটি উপজেলায় পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়।

App DinajpurNews Gif

বীরগঞ্জঃ বীরগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বীরগঞ্জ ৬ ডিসেম্বর সকালে হানাদার মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে একটি আনন্দ র‌্যালী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে শহীদ মহসিন আলীর কবর ও শহীদ বুধারু স্মৃতি স্থম্ভে পুস্প স্থবক অর্পন করা হয়।

আনন্দ র‌্যালী শেষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের প্রশাসক মোঃ ইয়ামিন হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক কমান্ডার কালিপদ রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন স¤পাদক

মোঃ নুর ইসলাম, যুগ্ন সাধারন স¤পাদক শামীম ফিরোজ আলম, বীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আবেদ আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন স¤পাদক ও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম ও অন্যরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাবেক ডিপুটি কমান্ডার এসএমএ খালেক।

বোচাগঞ্জঃ ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বোচাগঞ্জ পাকহানাদার মুক্ত দিবসে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালীর অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা জনতার র‌্যালী শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

১৯৭১ সালের ৬ডিসেম্বর বোচাগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে শত্র“ মুক্ত করেছিল বোচাগঞ্জের মাটি। সম্মুখ যুদ্ধে ধনতলা গ্রামের আব্দুর বারেক ও এনামুল হক, কাকদুয়ার গ্রামের চিনিরাম দেবশর্মা, বিহাগাঁও গ্রামের কাশেম আলী, রনগাঁও ইউনিয়নের ধনঞ্জয়পুর গ্রামের গুলিয়া বাংরু, বনকোট চুনিয়াপাড়া গ্রামের বের্য্যমোহন রায় সহ মোট ১৩ জন মানুষ শহীদ হন।

প্রতিবারের ন্যায় এবছরও উপজেলা মুক্তযোদ্ধা কমান্ড আজ ৬ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর স্মৃতিসৌধে পুষ্প স্থাবক অর্পন, সকাল ৯টা ২০মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল সাড়ে ৯টায় র‌্যালী শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা জনতার সমাবেশ করেছে।

এছাড়াও সন্ধা ৬টায় সেতাবগঞ্জ বড়মাঠে শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় সার্কাস শোর আয়োজন করা হয়।

বিরামপুরঃ দিনাজপুরের বিরামপুর ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে যথাযুগ্য মর্যদায় দিবসটি পালিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ৭নং সেক্টরের তরঙ্গপুর কালিয়াগঞ্জ রণাঙ্গনে ২৮০ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে। এই সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন মুক্তিযোদ্ধা উন্নতম বীর সেনানী যথাক্রমে মেজর নজমুল হুদা ও মেজর নুরুজ্জামান।

৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিরামপুর প্রেসক্লাবের ও মিডিয়া পাটনার নিউজ ডায়েরির আযোজনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লুৎফর রহমান শাহর সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান, বিশেষ অতিথি সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার বিরামপুর সার্কেল মিথুন সরকার, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকার টুটুল, বিরামপুর সরকারি কলেজের অধক্ষ্য ফরহাদ হোসেন, মহিলা কলেজের অধক্ষ্য শিশির কুমার, উপজেলা কৃষি অফিসার নিকছন চন্দ্র পাল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা কাওসার আলী, সাবেক উপাধক্ষ্য শাহাজান আলী, বিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আকরাম হোসেন ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধারা বিরামপুরকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ঘোড়াঘাট রেলগুমটি, কেটরা শাল বাগান, ভেলারপাড় ব্রিজ, ডাক বাংলা, পূর্বজগন্নাথপুর মামুনাবাদ ব্যঙ্কার বসিয়ে সর্তক অবস্থায় থাকতেন।

পাকসেনারা ৪ ডিসেম্বর পাইলট স্কুলের সন্মুখে ও ঘাটপাড় ব্রিজে প্রচন্ড শেলিং করে ভাইগড় গ্রাম দিয়ে তীরমনিতে ৪টি শেল নিক্ষেপ করে।

লোম হর্ষক ও সন্মুখ যুদ্ধে কেটরা হাটে ১৬ মুক্তিযোদ্ধাসহ ৭ পাক হানাদার বাহিনী নিহত ও শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা আহত ও পগুত্ব বরণ করে। এতে উপজেলার ২০ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, পগু হন ২জন, মারাত্মক ভাবে আহত হন ১৩ জন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য