মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে তিন সন্তানের জননীর সাথে অনৈতিক কাজের সময় হাতে নাতে ধরা পড়লো ইউপি মেম্বার। কৌশলে মেম্বার পালিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৫ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার কামারপুুকুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনছারুল হক এলাকার পূর্ব অসুরখাই ঘোনপাড়ার ভ্যান চালক ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী শাহনাজ এর সাথে পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন থেকে তারা প্রায়ই শারীরিক মেলামেশা করে আসছে।

এরই সূত্র ধরে তারা ঘটনার সময় ওয়াহেদ আলীর অনুপস্থিতির সুযোগে মেলামেশায় মিলিত হয় তারা। এসময় হঠাৎ ওয়াহেদ আলী বাড়ি ফিরে এসে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া না পেয়ে ঘরের দরজা ঠেলে দেখতে পায় তার বিছানায় ওয়ার্ড মেম্বার আনছারুল হক তার স্ত্রীসহ শুয়ে আছেন। ওয়াহেদ আলীকে দেখে মেম্বার খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে।

এসময় ওয়াহেদ আলী ঘরের দরজা বন্ধ করে চিৎকার করে। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে দেখতে পায় মেম্বার ও ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী শাহনাজ ঘরে আটক। পরে খবর পেয়ে মেম্বারের ভাইয়েরা ছুটে এসে ওয়াহেদ আলীকে হুমকি ধামকি দিয়ে মেম্বারকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ওয়াহেদ আলী বলেন, মেম্বারের নজর আগে থেকেই খারাপ। সে প্রায়ই এলাকার মহিলাসহ তরুণী-কিশোরীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে ওস্তাদ। আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মেম্বার আমার স্ত্রীর সাথে হয়তো জোড় পূর্বকই শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আমার স্ত্রী বাধ্য হয়েই তার প্রতি দূর্বল হয়ে এ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু তারা আজ হাতে নাতে আমার কাছে ধরা পড়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চায়না। তাই সে এখন ঘটনাটি অস্বীকার করছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকে জানান, মেম্বারের কুনজরের কারণে এলাকার অনেক মেয়েই তার কাছে ভিড়তে চায়না। কিন্তু তবুও সে মেয়েদেরকে টিজিং করে। কিন্তু মেম্বার হওযায় মেয়েরা তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনা। এবার সে পরকীয়ার সম্পর্কে ধরা খেলো।

উল্লেখ্য, ওয়ার্ড মেম্বার আনছারুল হকের ৩ মেয়ে ও ৪ ছেলে, ছেলের বৌ, মেয়ের জামাই রয়েছে। তারপরও সে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।ওয়ার্ড মেম্বার আনছারুল হককে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সে জানায়, ঘটনাটি সত্য নয়। আমার প্রতিপক্ষরা অহেতুক মিথ্যে প্রচারণা চালিয়েছে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান বলেন, কোন মেম্বার যদি এধরণের কান্ড ঘটিয়ে থাকে তাহলে সেটার দায় তার নিজের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য